একাদশ সংসদ নির্বাচনের আর কয়েকদিন মাত্র বাকি। তাই শেষ সময়ে খাগড়াছড়িতে প্রার্থী ও সমর্থকদের পাশাপাশি প্রার্থীর স্ত্রীরাও প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের স্ত্রীদের বিভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ স্বামীর পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রথম থেকে নির্বাচনি প্রচারে ছিলেন বিএনপির প্রার্থীর স্ত্রী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর স্ত্রী দুই দিন আগে নির্বাচনি প্রচারে নেমেছেন। উভয়েই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং স্বামীদের জন্য ভোট চাইছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থীর স্ত্রী মল্লিকা ত্রিপুরা পেশায় শিক্ষিকা। তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার শরীরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রক্ত প্রবাহিত। তিনি গত পাঁচ বছর খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য হিসেবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, যোগাযোগ, বিদ্যুতসহ সর্বক্ষেত্রে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। তিনি খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে চলেছেন। উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তির জন্য পুনরায় ভোটারদের কাছে ভোট চাইছি।’
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীর স্ত্রী নাজমা আক্তার পেশায় কলেজ শিক্ষিকা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর পরিবার জাতীয়তাবাদী আদর্শের উজ্জীবিত। আমার স্বামীর চাচা খাগড়াছড়ি থেকে দু’বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমার স্বামীও জনপ্রতিনিধি ছিলেন। আওয়ামী লীগের এই দুঃশাসনের সময়ও আমার স্বামী রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপির প্রার্থী।’
‘ভোটারদের কাছে কীভাবে ভোট চাইছেন’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ভোট চাইছি। আমার চাচা শ্বশুর ওয়াদুদ ভুইয়া সংসদ সদস্য থাকাকালে খাগড়াছড়ির আনাচে-কানাচে যে উন্নয়ন করেছেন তার ধারাবাহিকতা ও স্থায়ী শান্তির জন্য স্বামীর পক্ষে ভোট চাইছি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রার্থীর পক্ষে শুধু স্ত্রী কেন, যেকোনও সমর্থক, কর্মী ও নেতা ভোট চাইতে পারেন। সবাই যদি প্রচারণা চালাতে পারে এবং নির্বাচনে যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশন বাহবা পেতে পারেন। আমরা সেটি দেখার অপেক্ষায় আছি।
খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় এ বছর মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৪ জন। গত সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫১৬ জন। গত দু’টি নির্বাচনে ইউপিডিএফের প্রার্থীরা ৬০/৬৫ হাজার ভোট পেয়েছিলো। এবার নতুন ভোটার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬০ হাজার। যার অধিকাংশই তরুণ প্রজন্মের। তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের ওপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর ভাগ্য নির্ভর করবে।








