সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু। বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে আল মাহমুদ অ্যাভিনিউ রোডে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টুকু এ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে টুকু অভিযোগ করেন, জেলা রিটার্নিং অফিস থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
উচ্চ আদালতে রিট আপিলের আবেদনের (নং-১৫৬০১/২০১৮) পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে ইস্যুকৃত এবং ওই পত্রের আলোকে গত ২৫ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত দুটি পৃথক পত্রের বরাত দিয়ে এ ধরনের দাবি করেন টুকু। অন্যদিকে, উচ্চ আদালতের রিটের আদেশের বিপরীতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে গত ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আপিলের কারণে টুকুর প্রার্থিতা ফেরত প্রদানের বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন অফিস।
সংবাদ সম্মেলনে টুকু বলেন, ‘উচ্চ আদালতে আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের আমলে দায়েরকৃত তৎকালীন দুদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। আমি বৈধ প্রার্থী হলেও জেলা রিটার্নিং অফিস থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অথচ আমার প্রার্থিতা বৈধ মর্মে গত ২৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে রিটের আদেশের কাগজপত্র চেয়ে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে পত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে পত্র দেওয়া হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এ সময়ের মধ্যে এ ধরনের পত্রদানের বিষয়টি সত্যিই প্রহসন ও উদ্দেশ্যমূলক এবং নাটকীয়।’
গণমাধ্যমকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টে দায়েরকৃত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আপিলের বিষয়ে জানতে চাইলে টুকু বলেন, ‘বিষয়টি আপনারা আমাকে প্রশ্ন না করে বরং নির্বাচন অফিস বা কমিশনকেই জিজ্ঞাসা করুন।’
জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘টুকুর প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার বিষয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আপিল করলে গত ১১ ডিসেম্বর (বুধবার) সুপ্রিম কোর্ট থেকে তা স্থগিত করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘টুকুকে প্রার্থিতা ফেরত দেওয়া হচ্ছে মর্মে আমরা তাকে এ ধরনের কোনও পত্র দিইনি। আমরা বরং তাকে পত্রে বলেছি, “উচ্চ আদালতে রিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই পত্রের আলোকে নির্বাচন কমিশনের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য রিট পিটিশনের আদেশের কপি সরবরাহ করার জন্য নির্দেশিত হয়ে আপনাকে (টুকু) অনুরোধ করা হচ্ছে।” কিন্তু, উচ্চ আদালতের আদেশের কপি ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি জেলা নির্বাচন অফিসে দাখিল করেননি।’
প্রসঙ্গত, সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় টুকু জেলে যান। দুদকের ওই মামলায় সাজা হওয়ার কারণে চলতি মাসে টুকুর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করলে গত ১০ ডিসেম্বর এক আদেশে টুকু প্রার্থিতা ফেরতের আদেশ পান। ওই আদেশের বিপরীতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্ট বরাবর আপিল করলে ১১ ডিসেম্বর সে আদেশ আবারও স্থগিত করা হয় বলে জানা গেছে।








