১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ভারতের জৈনপুর থেকে আসা এক পীর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে খানকা স্থাপন করেন। ওই সময়ে এক স্থানীয় নির্বাচনের সময়ে সেখানে মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। জৈনপুর থেকে আসা পীর ফতোয়া দেন, নারীরা যেন ‘বেপর্দা’ হয়ে ঘর থেকে বের না হন। এতে নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন পুরো ইউনিয়নের নারীরা। এরপর কেটে গেছে বহু বছর। পীরের নির্দেশ মুসলিম নারীদের জন্য হলেও একই অবস্থা ইউনিয়নের হিন্দু নারীদেরও।এখনও ভোট দিতে আগ্রহ কম এ এলাকার নারীদের। তবে জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতা, প্রশাসনের কাউন্সিলিংসহ নানা কারণে গত কয়েক বছর ধরে এ ইউনিয়নের নারীদের মাঝে ভোটদানে আগ্রহ দেখা গেছে।
ফরিদগঞ্জের বাসিন্দা সাংবাদিক নাছির পাঠান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ ইউনিয়নের নারীরা আগে ভোট না দিলেও এখন ক্রমেই অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। অনেক নারীই এখন ভোট দেয়।
বর্তমানে এ ইউনিয়নে প্রায় ৯ হাজার নারী ভোটার রয়েছেন। পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবাধে কাজ করছেন এখানকার নারীরা । হাট-বাজার থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা সব ক্ষেত্রেই নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। শিক্ষার হারেও এখানকার নারীরা পিছিয়ে নেই। এমনকি পুরুষের ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারও।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের লক্ষ্মী রাণি (৫০) বলেন, ‘জৈনপুর হুজুরে বলেছেন ১৬নং ইউনিয়নে মহিলাদের ভোট দিতে হবে না, তাই আমরা ভোট দিতে যাই না।’
স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এমিলি বেগম বলেন, ‘এ এলাকার নারীরা সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে। তবে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমাদের মা, দাদি-নানিরা ভোট দেন না।
ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পর্দার মধ্যে থেকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের ওপর কোনও নিষেধ নেই। এখানকার নারীরা চাইলে পর্দা সহকারে ভোট দিতে পারেন।’
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি প্রতিটি সেন্টার ঘুরে দেখেছি। তাদেরকে মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি। তাদের মধ্যেও ভোট দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখেছি। তিনি বলেন, যে হুজুর ফতোয়া দিয়েছিল, তাকে কিংবা তার উত্তসুরীদের নারীদের ভোট দিতে যাওয়ার জন্য বলা উচিত।








