বিভিন্ন মেয়াদে ভারতের শিশু শোধনাগারে আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) দেশে ফিরেছে চার কিশোর। ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট শিশু শোধনাগারে রাখা হয়েছিল। বেলা সাড়ে ১১টায় হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের শূন্য রেখা দিয়ে তারা দেশে ফিরে আসে।
দেশে ফেরা কিশোররা হলো- জামালপুরের মেলান্দহ থানার উদনাপাড়া গ্রামের হাসান মাহমুদের ছেলে মেহেদি হাসান (১৭), কক্সবাজারের চকরিয়া থানার মাইজপাড়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে রবিউল আলম (১৪), জয়পুরহাট জেলা সদরের নিত্তিপাড়া গ্রামের মৃত মজিবরের ছেলে জহন মার্ডি (১৭), কুমিল্লার লাকসাম থানার গাজীমুড়া গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে জাফর ইকবাল (১৪)।
ভারতের হিলি অভিবাসন পুলিশের ওসি শিপ্রা রায়, বাংলাদেশের হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আব্দুস সবুরের কাছে ওই কিশোরদের হস্তান্তর করেন।
এ সময় সেখানে বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার এটিএম মোস্তফা ও বিএসএফের হিলি ক্যাম্প কমান্ডার ইন্সপেক্টর সাম্পান্না পান্ডে উপস্থিত ছিলেন।
দেশে ফেরা কিশোর জাফর ইকবাল বলেন, ভারতের বালুরঘাটে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তি হিলির পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার ধানক্ষেত দিয়ে আমাকে ভারতে পাচার করে নিয়ে যায়। পরে ভারতের হিলি পুলিশ আমাকে আটক করলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। অপর আরও দু’জন একইভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করলে হিলি পুলিশ তাদেরকে আটক করে।
ভারতের বালুরঘাট শোভায়োন হোমের সুপারিনটেনডেন্ট দাওয়া দর্জি শেফা বলেন, ওই চার কিশোর ১২ মাস থেকে ৩৩ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে আটক ছিল। পরে ভারত-বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি আদান প্রদানের পর আজ তারা মুক্তি পাওয়ায় তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখানে আরও ১৯ জন বাংলাদেশি শিশু-কিশোর আটক রয়েছে, তাদেরও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ওসি আব্দুস সবুর বলেন, বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধপথে ভারতে অনুপ্রবেশ করলে ওই কিশোরদের ভারতের আইনশৃংখলা বাহিনী আটক করে। পরে তাদেরকে ভারতের শিশু শোধনাগারে বিভিন্ন মেয়াদে আটক রাখা হয়। আজ দু’দেশের প্রক্রিয়া শেষে ওই চার কিশোরকে ভারতীয় অভিবাসন পুলিশ আমাদের নিকট হস্তান্তর করেন। পরে তাদের অভিভাবকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।








