রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেড হাউজে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ ১০ লাশ অবশেষে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জানাজা শেষে নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে লাশগুলো দাফন করা হয়। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের সর্দ্দার দফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে মৃত্যুবরণ করা ১০টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে হাসপাতালের ডেড হাউজে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে ছিল। কোনও স্বজন বা পরিচিত কেউ লাশগুলো নিতে আসেনি। এদিকে ডেড হাউজের তিনটি ফ্রিজের দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। একটি কোনও রকমে সচল থাকলেও সেটিও টিকমতো কাজ করে না। ফলে ১০টি বেওয়ারিশ লাশ অযত্নে অবহেলায় সেখানে পড়ে ছিলো। ফ্রিজিং ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বেশির ভাগ লাশ বিকৃত হয়ে কোনোটা কঙ্কাল এবং কোনটা গলে পচে যায়। ফলে ডেড হাউজের আশেপাশে সাধারণ মানুষের যাতায়াত করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল।
হাসপাতালের ডোম মানু জানান, ‘লাশগুলোর একটিকেও চেনার কোনও উপায় ছিল না। ডেড হাউজের ফ্রিজ ভালো থাকলে লাশগুলোর এমন অবস্থা হতো না। কারণ বেওয়ারিশ হিসেবে লাশগুলো থাকলেও নিখোঁজ হিসেবে অনেকের স্বজন ডেড হাউজে আসতেন। তবে চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তারা লাশ চিনতে পারেনি। ফলে তারা ফিরে গেছেন।’
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মানিক জানান, ‘বেওয়ারিশ লাশগুলো দাফন করার জন্য অনেকবার জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশনকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে লাশগুলো ডেড হাউজে পড়েছিল।’
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় জানান, ‘আমি এবার চিঠি ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসন ও সিটি মেয়রকে বেওয়ারিশ লাশ সৎকার করার অনুরোধ করি। ফলে তাদের সবার ঐকান্তিক চেষ্টায় রংপুর সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ১০টি বেওয়ারিশ লাশ জানাজা শেষে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’
অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাফ হোসেন জানান, ‘পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগে ১০টি লাশ দাফন করা হয়েছে।’








