কক্সবাজারের-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহিন আক্তার বলেছেন, ‘আমি টেকনাফকে ইয়াবামুক্ত এলাকা হিসেবে গড়তে তুলতে চাই, তবে এইটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সব জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণকে একইসঙ্গে কাজ করতে হবে।
১৪ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে ২টার দিকে কক্সবাজারে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ হল রুমে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান। নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই সংসদ সদস্য শাহিন আক্তারের প্রথম কোনও সভায় যোগদান।
তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা উখিয়া-টেকনাফের মানুষগুলো খুবই লক্ষ্মী। তবে এই এলাকার একটি কলঙ্কের নাম হচ্ছে ইয়াবা। এ ইয়াবা যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। তাই যেসব জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে আছেন তাদেরকে বলছি ইয়াবা ও মানব পাচার বন্ধ করতে যা যা করার দরকার তা করুন, এতে আমার পুরো সহযোগিতা থাকবে।
পাশাপাশি এলাকায় যাতে কোনও নারী নির্যাতিত না হয় সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শাহিন আক্তারের স্বামী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। এইটি হয়-তো আমার শেষ সভা উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইয়াবা ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কোনোভাবে কাউকে টেকনাফ থেকে ইয়াবা পাচার করতে দেওয়া হবে না।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ইয়াবা বন্ধ করতে হলে, প্রকৃত ইয়াবা মালিক ও বহনকারীদের গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, পাঁচটি বছর ইয়াবার কলঙ্ক নিয়ে পার হতে হয়েছে টেকনাফের মানুষকে, এখন এ কলঙ্ক মোচন করতে হবে। তাই সকলকে একসঙ্গে ইয়াবা বন্ধ করতে কাজ করার আহ্বান জানান।
এসময় তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন কেউ যদি তার কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান বদি।
এসময় বক্তব্য রাখেন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার. পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিক উদ্দিন, টেকনাফ মডেল থানার (তদন্ত) ওসি এবিএমএস দোহা প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি, হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী, টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাজান মিয়া, সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেন, বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন, সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ, বিভিন্ন দফতরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।








