বগুড়ায় বুধবার দুপুরে শহরতলির গোকুলে হোটেল মম ইন-এ যাত্রাবিরতির সময় মির্জা ফখরুলের সামনেই লিফটে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন জেলা বিএনপির দুই নেতা। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন বাকবিতণ্ডায় একপর্যায়ে হাতাহাতি পর্যায়ে পৌঁছান। এ সময় মহাসচিব ফখরুল ইসলাম জ্যাকেট ধরে সভাপতি সাইফুলকে নিবৃত করেন।
বগুড়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যাত্রা বিরতির খবর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামকে না দেয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে বলে জানান নেতাকর্মীরা।
এ নিয়ে উভয় নেতার সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে কী কারণে তাদের মধ্যে এ অবস্থা সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে রাজি হননি। ফোন বন্ধ রাখায় জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাইফুলের সমর্থক আবুল কালাম আজাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ঠাকুরগাঁও থেকে সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার পথে বুধবার দুপুরে বগুড়া শহরতলির গোকুলে হোটেল মম ইন-এ যাত্রাবিরতিকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে তামাশা করে আজ গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। তারা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। নির্বাচনের পর তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই আমরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করে বলেছি এ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করতে হবে।’
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, আলী আজগর হেনা, শহর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বকুল, সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন, মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যকে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভোট ডাকাতি করে জয়লাভ করে এখন বলছেন তারা দেশে জনপ্রিয়। কিন্তু জরিপ বলছে, ৯৯ শতাংশ মানুষ বিএনপির পক্ষে। তাই আওয়ামী লীগ এখন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়া আজ জেলে আর তারেক রহমান বিদেশে। তাই খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করতে, তারেক রহমানকে দেশে আনতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে বগুড়া থেকেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করতে হবে।’
বিএনপির সঙ্কটকালে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, ২০১৮ সালের নির্বাচন তা প্রমাণ করেছে। একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে, কারণ জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোটাররাও ভোট দিতে পারেননি। এ কারণে আজ সারাদেশে বিএনপি ও ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’








