নীলফামারী জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৮১ হাজার ৬১৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জেলার মাঠজুড়ে জমি চাষ, পানি সরবরাহ, সার প্রয়োগ, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন ও চারা রোপণ করার জন্য জমি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফ রব্বানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলায় মোট ৮১ হাজার ৬১৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।’
এর মধ্যে, নীলফামারী সদরে ২২ হাজার ৪৫৫ হেক্টর, সৈয়দপুরে ৬ হাজার ৪৪৫ হেক্টর, ডোমারে ১৩ হাজার ১৫ হেক্টর, ডিমলায় ১৩ হাজার ৮০ হেক্টর, জলঢাকায় ১৪ হাজার ৭৯১ হেক্টর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১১ হাজার ৭২৭ হেক্টর জমিতে কৃষকরা চারা রোপণ করছেন। আবার কেউ কেউ সবেমাত্র প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর কিছুদিন পরে চারা লাগানোর পুরো মৌসুম শুরু হবে।
সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক ওবায়দুর রহমান (৪৫) বলেন, ‘এ বছর অন্যান্য ধানের জাতসহ ব্রিধান-২৮ ও ব্রিধান-২৯-এর ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় কৃষকরা কোমর বেঁধে আগাম চারা রোপণ করছে। এতে ভালো ফসল হবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া এখন কম দামে হাজিরা (শ্রমিক) পাওয়া যাচ্ছে। এ জাতের ধানে পানি ও সার কম প্রয়োগ করতে হয়।’
একই ইউনিয়নের চড়চড়াবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলা মোটামুটি ভালো আছে। বীজ সংগ্রহ করতে হাজিরা খুব বেশি লাগবে না। কারণ বীজতলা এবার কোল্ড ইনজুড়িতে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তাই অল্প খরচে বীজ উত্তোলন করা যাবে। এতে সময় কম লাগবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, ওই পরিমাণ জমি চাষ করতে এবার ৪ হাজার ৮১ হেক্টর জমিতে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৪০ হেক্টর। তুলনামূলকভাবে, ১৫৯ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত বীজতলা জেলায় মজুত আছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত নীলফামারীতে সারের মজুত আছে ৮৩ হাজার ৪৬৩ মেট্রিকটন। এর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া ৪৫ হাজার ৫৭৭ মেট্রিকটন, টিএসপি ১০ হাজার ৮২৭ মেট্রিকটন, ডিএফই ১৪ হাজার ৩২৪ মেট্রিকটন, এমওপি ১২ হাজার ৭৩৫ মেট্রিকটন সার। চাহিদা অনুযায়ী এসব সারের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো মৌসুমে সারের কোনও অপ্রতুলতা থাকবে না বলে কৃষি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. কেরামত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা কোমর বেঁধে আগেভাগেই বোরো চাষে মাঠে নেমেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া চারা থেকে চারার দূরত্ব, সারের পরিমাণ, পানির পরিমাপ ঠিক রাখতে কাজ করছেন আমাদের লোকজন। আশা করি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।’








