মেহেরপুরে আসামি ধরতে গিয়ে না পেয়ে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ওপর নির্যাতন,মোটরসাইকেল,স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট এবং ভাঙচুরের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম লস্কর লাজুল ইসলাম ওরফে জিয়া। তিনি মেহেরপুর সদর থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বুধবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ওই আসামি মেহেদি হাসান বাকেরের স্ত্রী মারিয়া খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. হাদিউজ্জামানের আদালতে এসআই জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার পিটিশন নম্বর-৮/১৯। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, ডিবি) ওবাইদুর রহমান, ডিআইও ওয়ান ফারুক হোসেন।
মামলার বিবরণে বাকেরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারিয়া খাতুন বলেন,‘গত মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বাড়িতে একা ছিলেন এবং দুপুরের রান্না করছিলেন। এ সময় এসআই জিয়া আরও দুজন পুলিশ কনস্টেবল নিয়ে বাড়ির দরজায় ডাকাডাকি শুরু করেন। বাড়িতে কেউ নেই বলাতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে টিনের দরজায় লাথি মারলে দরজা খুলে যায়। তখন তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় গালিগালাজ করতে করতে ঘরের মধ্যে ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা শুরু করেন। চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিস ভাঙচুর করেন এবং আলমারিতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেন। পরে রান্নাঘরে মোটরসাইকেল দেখে চাবি চান। চাবি দিতে না চাইলে তখন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং বিভিন্ন হুমকি দেন। একপর্যায়ে চাবি দিলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপাচি আরটিআর ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং বলেন টাকা নিয়ে গিয়ে মোটরসাইকেল ফেরত নিয়ে আসতে। এ সময় তারা ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা, ৯১ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছেন।’
এ বিষয়ে বাকের বলেন, ‘সোহেল নামের এক অটোচালকের সঙ্গে পূর্বের একটি বিরোধ থেকে সে থানায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসআই জিয়া আটক করতে আসেন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অপরাধ করলে আমি করেছি। আমার স্ত্রী কোনও অপরাধ করেনি। আমার বাড়িঘর কোনও অপরাধ করেনি। আমার বাবাও একজন পুলিশ কর্মচারী। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের ব্যবহার তিনি করতে পারেন না। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
প্রতিবেশী আনজিরা খাতুন বলেন, ‘তিনজন পুলিশ এসে বাড়ির ভিতরে সবকিছু ভেঙেচুরে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার সময় আজেবাজে গালিগালাজ করেছে। বাকেরের পোয়াতি ( অন্তঃসত্ত্বা) বউকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।’
বাকেরের নানি সফুরা খাতুন বলেন, ‘বারবার করে মোটরসাইকেলটি না নিয়ে যাওয়ার জন্য হাতজোড় করলাম, তবুও শুনলো না ওই পুলিশটা। মোটরসাইকেল নিয়ে গেল, আবার টাকা নিয়ে গিয়ে ছাড়িয়ে আনতেও বললো।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই লস্কর লাজুল ইসলাম জিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে মোটরসাইকেল নিয়ে আসার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে একটি অনটেস্ট (লাইসেন্সবিহীন) মোটরসাইকেল ছিল সেটি নিয়ে এসেছি।’ মোটরসাইকেল কেন নিয়ে আসলেন? এমন প্রশ্নে তিনি কোনও জবাব দেননি।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বাকেরের বাবা শামসুল ইসলাম একজন পুলিশ কনস্টেবল। তিনি রংপুরে কর্মরত রয়েছেন।








