যশোর রেল স্টেশনে কর্মরত সহকারী স্টেশন মাস্টার আরিফুর রহমানকে রেলের নিরাপত্তাকর্মী মাসুদ হাসান মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় মাসুদ হাসানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরিফুর রহমান আহতাবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যশোরের স্টেশন মাস্টার পুষ্পল চক্রবর্তী এ ঘটনার সত্যতা বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
যশোর রেল স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বেনাপোল থেকে খুলনামুখী একটি ট্রেন আসে। ট্রেনটি যশোর স্টেশনে পৌঁছলে কিছু মালপত্র ওঠানো নিয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মাসুদ হাসানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মাসুদ হাসান সহকারী স্টেশন মাস্টারকে কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে আরিফুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত আরিফুর রহমান জানান, ট্রেনে মালামাল ওঠানোর জন্যে বুকিংয়ের কথা বলতেই মাসুদ হাসান তার ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান লর্ড জানান, ২৪ ঘণ্টা পার না হলে আরিফুর রহমানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
জানতে চাইলে যশোর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার পুষ্পল চক্রবর্তী এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। যতটুকু শুনেছি, ট্রেনে মাল ওঠানোর জন্যে আরিফুর রহমান বুকিংয়ের কথা বলেন। কিন্তু মাসুদ বিনা বুকিংয়ে তা পাঠানোর জন্যে বলেন। এ নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সহকারী স্টেশন মাস্টারকে মারধর করেন মাসুদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় মাসুদ হাসানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’ মারধরের ঘটনায় মামলা হতে পারে বলেও তিনি জানান।
যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমিও শুনেছি। যতটুকু শুনেছি, তাতে মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। কেন সহকারী স্টেশন মাস্টার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তা ঘটনাস্থলে না গিয়ে বলতে পারছি না।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে সিপাহী মাসুদ হাসান বলেন, ‘মাস্টার আরিফ চারটি কার্টুন ট্রেনে পাঠানোর জন্যে বিনা মেমোয় একজনের কাছ থেকে দেড়শ’ টাকা গ্রহণ করেন। বিষয়টি তাকে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি আমাকে ধাক্কা দেন। আমিও তাকে ধাক্কা দিই। এখন আমাকে দোষী করতে তিনি মারধর করা হয়েছে বলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’
মাসুদ আরও জানান, সাসপেন্ডের বিষয়টি তিনি শুনেছেন তবে এ বিষয়ে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।








