বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের নিলাম করা ওয়াগনের মালামাল মাপ ছাড়াই সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাপার যন্ত্রপাতি না আনায় ইচ্ছামতো বেশি মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। এতে রেল বিভাগ লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এসব ওয়াগন ভেঙে সরবরাহের সময় রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টক ভেরিফাইয়ার সাহিদ হোসেনের থাকার কথা থাকলেও তিনিসহ রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাউকে দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের সিওএস-পশ্চিম-রাজশাহীর নথি নম্বর-সেল ২০১৮/০৮ ও ২০১৮/১০ এবং বিক্রয়াদেশ নম্বর ২০১৮/৩৬ ও ২০১৮/৩৭ দরপত্রের মূলে মিটার গেজের এমজি ৩৭টি এবং ব্রড গেজের ৩৯ মিলে (দুই লটে) সর্বমোট ৭৬টি ওয়াগন কেটে সরবরাহের জন্য চট্টগ্রামের পাথরঘাটার মঈন উদ্দীন জাভেদ ট্রেডার্সকে অনুমতি দেওয়া হয়। রেলওয়ের রাজশাহী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পশ্চিম) কর্তৃক সৈয়দপুর জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মিটার গেজের এমজি ৩৭টির প্রতিটি ওয়াগন থেকে পৌনে দুই টন এবং ব্রড গেজের ৩৯টির প্রতিটি ওয়াগন থেকে প্রায় পাঁচ টন সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু তারা মাপযোগ ছাড়াই ইচ্ছে মতো অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে যাচ্ছে।
সান্তাহার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আসলাম সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেলিভারি কর্মকর্তা সাহিদ হোসেনের সাথে ক্রেতা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগসাজস করে নির্দিষ্ট মালমালের চেয়ে বেশি মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে রেলের লাখ লাখ টাকা লুটপাট হচ্ছে।’
আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আনছার আলী বলেন, ‘নিলাম করা মালামালের মধ্যে ওয়াগনের শুধু প্লেট সরবরাহের কথা উল্লেখ রয়েছে। স্প্রিং, প্লেট, স্কেলবক্স, এক্সেলগার্ড, দরজা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এসব মালামালগুলোও নিয়ে যাচ্ছে। এখানে দেখার কেউ না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইচ্ছে মতো মালামাল কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. জাহিদ বলেন, ‘সিডিউল অনুযায়ী ওয়াগন থেকে স্ক্রাপ মালামাল নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত মালামাল নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’
বিক্রয়াদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মালামাল সরবরাহের পর অতিরিক্ত মালামাল বুঝে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা স্টক ভেরিফাইয়ার সাহিদ হোসেনকে ঘটনাস্থনে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সাহিদ হোসেন বলেন, ‘মালামাল সরবরাহ শেষের দিকে। আর মাত্র ৬টি ওয়াগন সরবরাহের কাজ বাকি রয়েছে। শেষ সময় আমি আর কিছু বলতে পারছি না।’
সান্তাহার ক্যারেজ বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনছার আলী মৃধার কাছে ওজন ছাড়াই এসব মালামাল সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মালামাল ওজন করে দেওয়ার দায়িত্ব আমার নেই। আমার শুধু দেখাশোনার দায়িত্ব। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’








