দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সোনামসজিদ স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪১০ কোটি টাকা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৩৫ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ৯১ কোটি ৮২ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এ সময় ঘাটতি ১৪৩ কোটি ৪১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা ও বন্দর ব্যবস্থাপনা সংস্থা পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ১৯৯১ সালে চালু হয় সোনামসজিদ স্থলবন্দর। ভারতের সঙ্গে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা, দূরত্ব কম ও ব্যয় কম হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে বন্দরটি। ভারত থেকে পাথর, ফ্লাইঅ্যাস, মোটর যন্ত্রাংশ, পোল্ট্রি খাবার, পেঁয়াজ, ফলমূল ও মসলাসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি হতো এই বন্দর দিয়ে। বন্দরটি পরিচালনার জন্য ২০০৬ সালে পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড নামে একটি সংস্থাকে ২৫ বছরের জন্য লিজ দেয় সরকার। অবকাঠামো নির্মাণসহ আধুনিক পূর্ণাঙ্গ একটি বন্দর তৈরিতে তাদের সময় দেওয়া হয় চার বছর। কিন্তু প্রায় একযুগ পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। অপরদিকে এ বন্দরের কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সেলিম রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বন্দরসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও বন্দর ব্যবস্থাপনা সংস্থা পানামার অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। এছাড়া দ্রুত পণ্য ছাড়ে যেসব জটিলতা রয়েছে তা দূর করে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি বাড়াতে হবে।’
ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নে তেমন কোনও ভূমিকা নেই কর্তৃপক্ষের। শুধু তাই নয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনও ক্রেন ও ওয়্যার হাউস নেই। রয়েছে গুদামের অভাব। বৃষ্টি হলে যে সেডের দরকার তাও নেই। এমনকি জিরো পয়েন্ট থেকে বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত রাস্তাটি একেবারেই অচল। প্রতিদিনই এই রাস্তায় দু-চারটি গাড়ি উল্টে পড়ে থাকে। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়।’
সোনামসজিদ স্থলশুল্ক বন্দরের শ্রমিক সর্দার মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘একসময় এই বন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু গত দুই বছর যাবৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ঘাটতি নিরসনে অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্দরে আগে প্রতিদিন পণ্যবাহী ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ গাড়ি প্রবেশ করতো; এখন তা দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ২০০-এর মধ্যে।’
এই স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনা করা হলে পণ্য আমদানির পাশাপাশি বাড়বে রাজস্ব আদায়ও।’
ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে সোনামসজিদ শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার সন্তোষ সরেন বলেন, ‘আগের তুলনায় বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি খানিকটা কমেছে। চলতি অর্থ বছরে প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪৩ কোটি ৪১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। তাই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হচ্ছে না।’








