সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন মো. জহুরুল ইসলাম (২১)। বিয়ের পর ভালোই চলছিল তার সংসার। সিএনজি চালানোর প্রয়োজনে প্রতিদিন ভোর রাতে বের হয়ে রাত ১০-১১টার বাড়ি ফিরতেন জহুরুল। বিয়ের কয়েক মাস যাওয়ার পর তার সন্দেহ হয়, স্ত্রী মলি বেগম (১৮) পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে বন্ধু আল-আমিন নয়নকে নিয়ে মলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জহুরুল। ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট রাতে মলিকে বালিশ চাপা দিয়ে ও গলাটিপে ধরে হত্যা করে নয়ন। আর বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয় জহুরুল। পরে দুই জনে মিলে মলির লাশ উঠিয়ে পাবনা থেকে সিরাজগঞ্জ নিয়ে আসে। শাহজাদপুর বাস টার্মিনাল থেকে কিছুদূর গিয়ে একটি ব্রিজের ওপর থেকে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। এই ঘটনার পর থেকে জহুরুল বিভিন্ন জেলায় পালিয়ে বেড়াতে থাকে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় বছর পর মামলার এই জট খুলেছে পাবনার পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। অনেক কৌশল অবলম্বন করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জহুরুলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে জহুরুল।
পাবনা পিবিআই’র প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সবুজ আলী জানান, ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা জেলার আমিনপুর থানার রাম নারায়ণপুর গ্রামে তোরাপ শেখের ছেলে মো. জহুরুল ইসলামের ঘর থেকে তার স্ত্রী মলি বেগম নিখোঁজ হন বলে থানায় একটি জিডি করেন মলির বাবা একই গ্রামের আব্দুর রব ফকির। কয়েক মাস কেটে গেলেও তার মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তিনি আদালতে মামলার আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে আমিনপুর থানার মামলা হয়। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ তদন্ত করে কোনও কূল কিনারা করতে না পারায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্তভার পাবনা জেলা পিবিআই এর ওপর দিয়ে দেয়।
পিবিআই তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত করে। মূল আসামিকে গ্রেফতারের জন পাবনা পিবিআই একটি টিম গঠন করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। তারই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জহুরুল ইসলামকে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানা মোড় থেকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর থেকে নয়ন পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পিবিআই কর্মকর্তারা।








