দিনাজপুরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় হত্যার হুমকি, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনও মামলা নথিভুক্ত হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। তবে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার উত্তর গোসাইপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র সুমন মিয়া শনিবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– নাজমা বেগম, শিউলি আক্তার, কমলা বানু ও শাফু বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে সুমন মিয়া বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে দিনাজপুর শহরের সুইহারী এলাকার মৃত মোজাম্মেল কাদেরীর তিন ছেলে ফরিদ কাদেরী (৩২), মুকুল কাদেরী (৩০) ও ভুট্টু কাদেরী (২৭), একই গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে আসাদ (৩০), গোসাইপুর এলাকার সুজন (৩০) ও তাদের সহযোগীরা আমাদের জমি জবর-দখল করার জন্য অহেতুক বিরোধ সৃষ্টি ও হুমকি দিয়ে আসছিলো। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার সময় তারা ১০-১৫ জন অস্ত্র হাতে জোরপূর্বক আমাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। তারা মারপিট ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার সময় অভিযুক্ত আসামিরাসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ১২-১৪ জন পুনরায় অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার মা নাজমা বেগম, স্ত্রী সাফু বেগম, ভাবি শিউলী বেগম ও ছোট ভাই নাজমুল হকের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত হয়ে নাজমুল অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এর মধ্যে তারা ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫৪ হাজার টাকা লুট করে নেয়।’
লিখিত বক্তব্যে সুমন মিয়া আরও বলেন, ‘ঘটনা চলার সময় গোয়ালঘরে আত্মগোপন করে তিনি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদওয়ানুর রহিমকে ফোন করলে বেশ কিছুক্ষণ পর থানা থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে তিনজন পুলিশের সহযোগিতায় ও বাড়ির দুই সদস্য মিলে ইজিবাইকে করে নাজমুলকে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা রেকর্ড করা হয়নি।’
সুমন বলেন, ‘কোতয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম পাঁচ নম্বর আসামি মো. সুজনকে বাদ দিয়ে দরখাস্ত করার জন্য থানার এক দালালের মাধ্যমে আমাকে জানান। আমরা তাতে রাজি না হওয়ায় থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি। এদিকে আসামিরা প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে মামলা না করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছি।’
ঘটনার বিষয়ে দিনাজপুর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেদওয়ানুর রহিম বলেন, ‘এ বিষয়ে কারও সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি।’ লিখিত অভিযোগপ্রাপ্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ হাতে পেয়েছি এবং তদন্ত করার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে।’ তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন কথা।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফরিদ কাদেরী বলেন, ‘এই জমিগুলো আমার মালিকানাধীন। কিন্তু সেগুলো অন্যায়ভাবে জবর-দখল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাদা দাবি করেছে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার বৈঠক হলেও অভিযোগকারীরা কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’








