চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় আহত হয়েছে অন্তত ১১ জন। বিবাদমান দুই গ্রুপই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার রাতে নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রসুল নিশানকে মারধর ও অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তার অনুসারীরা। পরে তাকে নগরীর একটি পাহাড় থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ক্যাম্পাসে অবস্থানরত বগিভিত্তিক সংগঠন ‘সিক্সটি নাইন’র অনুসারীরা নিশানকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ করে নিশানের অনুসারী ও বগিভিত্তিক সংগঠন ‘উল্কা’র নেতাকর্মীরা। পরে উল্কার অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একই সময়ে এই সংগঠনের আরও একটি গ্রুপ চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-রাঙ্গামটি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখে। এক পর্যায়ে ‘সিক্সটি নাইন’র অনুসারীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়। এতে উভয় গ্রুপের ১১ জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
উল্কা গ্রুপের নেতা মো. সুমন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আলমগীর টিপুর বিয়ে ছিল। অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার পথে নিশান ভাইকে অপহরণ করা হয়। আর এই অপহণের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সিক্সটি নাইনের সিনিয়র নেতারা।’
অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ইকবাল টিপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাতের বেলা কোনও কিছু বুঝে উঠার আগে উল্কাসহ অন্যান্য গ্রুপের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছেলেরা সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। এটি একটি পরিকল্পিত হমালা। কে বা কারা তাদের নেতাকে অপহরণ করেছে তার দায় আমাদের ওপর চাপিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ আখতারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘শহরে ছাত্রলীগের একজনকে মারধর করায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। এসময় ইটপাটকেলে আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।’








