পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়া হেলেনা আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীকে গ্রাম্য চিকিৎসকের মাধ্যমে গর্ভপাত করানোয় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ শুক্রবার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার টিয়ারখালী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক হানিফ হাওলাদারসহ (৪০) পাঁচজনকে আসামি করে ওই কিশোরীর দিনমজুর বাবা আবদুল কুদ্দুস মুন্সী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার দুপুরে পুলিশ গ্রাম্য ওই গ্রাম্য চিকিৎসক আলমগীর হোসেনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে। আলমগীর বামনা উপজেলার দক্ষিণ ডৌয়াতলা গ্রামের হাসেন আলী হাওলাদারের ছেলে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আনোয়ার বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর উপজেলার টিয়ারখালী গ্রামের মজনু হাওলাদারের ছেলে হানিফ হাওলাদার (৪০) প্রতিবেশী কিশোরী হেলেনা আক্তারকে নিজ বাড়িতে ডেকে জোর করে ধর্ষণ করে। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি ঘটনাটি গোপন রাখে। পরে মাসিক বন্ধ হয়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ধর্ষক হানিফ ও তার মা জাহানারা বেগম মেয়েটিকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বামনা উপজেলার দক্ষিণ ডৌয়াতলা মদিনা বাজারে আলিফ মেডিক্যাল হলের আলমগীর হাওলাদার নামে এক গ্রাম্য ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। এতে কিশোরীটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে তার অবস্থা গুরুতর হলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান ইরান-সহ কয়েকজন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই কিশোরীকে গত ৪ জানুয়ারি মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ভোররাতে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়।
ওসি মো. শওকত আনোয়ার জানান, কিশোরীর পরিবার ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। পরে তদন্ত করে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আইনি সহায়তা দিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।








