৫০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমিন আহমেদ। সোমবার নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। মামলায় জাসমিনের স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা আবু নকিবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আবু নকিব ঢাকা মহানগর পুলিশের সার্কেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য প্রসিকিউটর জাসমিন আহমেদকে ৭ দিনের মধ্যে অভিযোগ সংক্রান্ত যথাযথ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। জাসমিন নিজেই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
মামলায় জাসমিন তার স্বামী আবু নকিবকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি তার পরিবারের আরও চারজনকে আসামি করেছেন। অন্য আসামিরা হলেন- নকিবের ভাই মো. নাছের নিপুন (৩৫), বোন জুবরিয়া বেগম (৬০), অপর ভাই মো. আবু নোমান সজন (৫০) ও ভাইয়ের স্ত্রী শিরিন আক্তার হিরা (৪৫)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সন্তান দানে অক্ষম জেনেও জাসমিন আহমেদকে ২০০৭ সালের ১৪ মে বিয়ে করেন মো. নকিব। বিয়ের পর স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে অত্যাচার করতে থাকেন স্বামী। পারিবারিক শান্তির জন্য স্বামীকে ১২ লাখ টাকার ১টি প্রাইভেটকার, ১টি মোটর সাইকেল এবং ঢাকায় জমি কেনার জন্য নগদ ৫০ লাখ টাকা দেন জাসমিন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, জাসমিনের স্বামী নকিব সম্প্রতি লম্বা দাঁড়ি রেখে ও স্বাভাবিক চালচলন পরিবর্তন করে উগ্র জঙ্গীবাদী সংগঠনে জড়িয়ে পড়েন। জাসমিনকে উগ্র জঙ্গিবাদি দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন। একবার চলন্ত মোটর সাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে, ঘুমের মধ্যে গলা টিপে ধরে এবং মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালান। নকিব। তিনি জাসমিনকে পিটিয়ে নির্য়াতন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
অতিরিক্ত পিপি জাসমিন আহমেদ স্বামীর বিরুদ্ধে এই মামলার ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান, নকিব তাকে না জানিয়ে আরও দুইটি বিয়ে করেছেন। পরে তার খোঁজ-খবর নেওয়া বন্ধ করে দেন। ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নকিবের সঙ্গে শেষ দেখা হয় বলেও জানান তিনি। ওই সময়ও নকিব ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে জাসমিন অভিযোগ করেন।
জাসমিন দাবি করেন, তার কাছে নকিবের কোনও ফোন নম্বরও নেই। ফলে অভিযোগের বিষয়ে নকিবের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।








