দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যপাড়া পাথর খনিতে গত মার্চ মাসে প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। এই খনি থেকে এক মাসে পাথর উত্তোলনে নতুন রেকর্ড এটি। এই খনির মাসিক গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২০ হাজার টন পাথর। যেখানে গত মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮ হাজার টন পাথর বেশি উত্তোলন করা হয়েছে।
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক (তিন শিফটে) ৫ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০০৭ সালের ২০ মে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয় দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পে। কিন্তু মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭ বছর ধরে তিন শিফটে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম চালুই করতে পারেনি। ফলে দৈনিক এক শিফটে ৭০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টনের মধ্যে পাথর উত্তোলন সীমাবদ্ধ থাকায় খনিটি লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধের উপক্রম হয়। ২০১৪ সালে জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) খনির দায়িত্ব গ্রহণ করে খনি উন্নয়নের পাশাপাশি উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে দৈনিক তিন শিফটে পাথর উত্তোলন করে ইতোমধ্যে মাসিক পাথর উত্তোলন এক লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসে এই খনিতে ১ লাখ ২৫ হাজার টন ও গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১ লাখ ১৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হয়। আবার গত ৯ মার্চ ২৪ ঘণ্টায় তিন শিফটে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে খনির উৎপাদন ইতিহাসে একদিনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। গত মার্চ মাসে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৮০২ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে আরেকটি রেকর্ড সৃষ্টি করলো খনিটি।
জিটিসি’র মহাব্যবস্থাপক জামিল আহমেদ জানান, ‘মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে জিটিসি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই উৎপাদনে শ্রমিকদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখানে কর্মরত প্রায় সাড়ে ৭শ’ খনি শ্রমিকের বেতন ও ওভারটাইমের সঙ্গে উৎপাদন বোনাসও দেওয়া হচ্ছে।’








