মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে কিংকন বৈদ্য নামে এক শিক্ষার্থীকে পিলারের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক স্বপন ঠাকুরসহ কয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর কিংকন বৈদ্যর বাবা সমল বৈদ্যকে ডেকে এনে প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে মুচলেকা রাখারও অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
নির্যাতিত ছাত্র কিংকন জানায়, ‘আমি মোবাইলে টাকা লোড করতে দোকানে গিয়েছিলাম। এ সময় আমাদের স্কুলের সুব্রত স্যার আমার কলার ধরে বলে, স্কুল থেকে বাইরে কেন? আমি তখন স্যারকে জানাই, আমি আজ স্কুলে আসিনি। এরপরও আমার কলার ধরে চড়-থাপ্পড় দিতে দিতে স্কুলে নিয়ে যায়। এরপর জুতা দিয়ে পেটায়। একপর্যায়ে আমি পড়ে গেলে আমাকে একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে লাঠিপেটা করে বলে, তুই ইভটিজিং করছস। আমাদের মারতে আইছস, তোকে ৩ মাসের জেল দেব। এ সময় প্রধান শিক্ষক স্বপন ঠাকুর আমাকে মারধর করে। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই, তারপর আর কিছু জানি না।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, যেসব শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে না তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও মারধর করা হয়। প্রতিবাদ করলে নেশাগ্রস্ত ও ইভটিজিংয়ের মিথ্যা অভিযোগ আনেন ওই প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দীপক রায় জানান, ‘আমি জানতে পারি ছেলেটিকে পিলারের সঙ্গে বেঁধে জুতাপেটাসহ মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি শুনে খারাপ লাগে। এই শিক্ষকের নামে এর আগেও এরকম চার-পাঁচটি ঘটনার অভিযোগ আছে। তাকে আমরা বিভিন্নভাবে সতর্ক করেছি, তবুও তিনি শুনছেন না।‘
শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ বিষয়ে আড়ুয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন ঠাকুর বলেন, ‘কিংকন স্কুলের বাইরে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় শিক্ষক কুমুদ বাবু ওকে স্কুলে নিয়ে আসে। ওই ছাত্র কুমুদ বাবুর ওপর চড়াও হয়। এরপর আমার অফিস সহকারী ওকে বেত দিয়ে একটি বাড়ি দিলে ওই ছাত্র আমাকে ঘুষি মারে, তখন আমার স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ওকে চড়-থাপ্পড় দেয়। আমি বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ পাঠানো হলে ওই ছাত্রের বাবা স্কুলে এসে লিখিত দিয়েছে। ’








