পুলিশের চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে যারা জড়িত তারা কেউ পার পাবেনা। মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশের দুটি টিম তদন্ত করছে। তদন্তেও ব্যাপক অগ্রগতি আছে। পুলিশের দুটি টিম অভিযান চালিয়ে ৭জনকে আটক করেছে। আসামিদের রিমান্ডে আনা হচ্ছে । রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি জানান, নুসরাতের জবানবন্দিতে শম্পা নামের কোন মেয়ের অস্তিত্ব না পেলেও সন্দেহভাজন হিসেবে একজন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের আটক করা হবে । পুরোপুরি তদন্ত শেষ না করে বলা যাচ্ছে না নুসরাতের উপর কেউ হামলা করেছে নাকি সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পুরো তদন্ত শেষ করে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে সবাইকে জানানো হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের আগে তিনি পৃথকভাবে নুসরাতের পরীক্ষার হলে থাকা ২৪জন ছাত্রী ও কয়েকজন অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় তার সঙ্গে ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, এএসপি সদর সার্কেল উক্য সিং, এএসপি সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেল সাইকুল আহম্মদ ভূঞা, ওসি মো. মোয়াজ্জ হোসেন, ওসি (তদন্ত) মো.কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৭এপ্রিল রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আবুল ফয়েজ।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ জন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তার স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রীকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।








