মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি কথিত প্রেমিক শুকুর আলীকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ১০ দিন পর শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে তাকে রাজনগর ও কুলাউড়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। এর আগে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর পাঁচ আসামিকে আটক করে পুলিশ।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে শুক্রবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শুকুর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হবে।’
গ্রেফতারকৃত শুকুর আলী জানায়, ওই কিশোরীর সঙ্গে তার দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
কুলাউড়া ও রাজনগর থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ রাজনগর উপজেলা সদরে ছদ্মবেশে অপেক্ষা করতে থাকে। শুকুর আলীকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাকে সিগন্যাল দিয়ে থামায় পুলিশ। এ সময় নিজের পরিচয় গোপন করলে ছদ্মবেশী পুলিশ চ্যালেঞ্জ করে শুকুর আলীকে। একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সিএনজি অটোরিকশা চালক হাসান মিয়াকে (২৫) আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের পুসাইনগর এবং জুড়ী উপজেলার ফুলতলা সীমান্ত এলাকা থেকে দিলাল ওরফে বিলাল মিয়া (২৫), জাহাঙ্গীর আলম (২৬), সুজন মিয়া (২২) ও সুফিয়ান মিয়াকে (২৫) আটক করে। এর মধ্যে দিলাল ও জাহাঙ্গীর দালালের মাধ্যমে চোরাই পথে ভারতে পালানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার ১৭ বছরের এক কিশোরীকে সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে নিয়ে কুলাউড়া-বড়লেখা সড়কের আশুরীঘাট এলাকায় নির্জন স্থানে সাত দুর্বৃত্ত ধর্ষণ করে এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। পরে ওই কিশোরীকে হুমকি দেওয়া হয়, ঘটনাটি কাউকে বললে ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়া হবে। পরদিন ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় শুকুর আলীকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।








