ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং নারী নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফোকলোর চত্বরে মৌন মানববন্ধন করে তারা এ দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নুসরাত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার কুশপুত্তলিকায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়াও কর্মসূচিতে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি ধর্ষণের অন্যতম কারণ,’ ‘হোক প্রতিরোধ হোক প্রতিবাদ/ ধর্ষণ নিপাত যাক,’ ‘ধর্ষণ আর নির্যাতনে আর কত লাশ হবে জমা?’ ‘প্রতিবাদ করলে যদি মৃত্যু হবে/ নারী তাহলে কোথায় যাবে’ সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন– তানজিমা জোহরা হাবিব, আশরাফুজ্জামান, জিএম আবদুল ওহাব প্রমুখ।
এর আগে একই দাবিতে সকাল ১০টার দিকে মানববন্ধন করে রাবি প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে বক্তারা বলেন, ‘একের পর এক নারী নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসবের কোনও বিচার হচ্ছে না। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হওয়ার জন্য বিচারহীনতা অন্যতম কারণ।’
এ সময় বক্তারা বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দায়ী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ করে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ন করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা। রাফির মায়ের করা মামলায় সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল রাফি আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে কৌশলে একটি চারতলা ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় সিরাজের অনুসারীরা। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাফি। এ ঘটনায় রাফির ভাইয়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।








