আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসার, শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা।
পিবিআইয়ের চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল সোমবার সকালে সেই মাদ্রাসায় যান। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
মো. শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নুসরাত হত্যা, মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে কেউ কেউ বিচারিক হাকিমের কাছে গিয়ে এই সময়ের মধ্যে সাক্ষ্য দেবেন কিনা মতামত চাওয়া হয়েছে। কারণ দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় সাক্ষীরা আদালতে গিয়ে সাক্ষী দেন না। তাই দ্রুততম সময়ে সাক্ষীদের জবানবন্দি লিপি বদ্ধ করা হচ্ছে ।’
উল্লেখ্য, নুসরাত জাহান রাফি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।








