ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র সম্ভব্য প্রভাব মোকাবিলায় সাতক্ষীরা জেলা ও উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সাতক্ষীরাসহ খুলনার কয়েকটি জেলার জন্য ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে সাতক্ষীরায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় সাতক্ষীরা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় জানানো হয়, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় ফণী বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এজন্য সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় সবাইকে সর্তক থাকতে হবে। উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
সভা থেকে জেলার ১৩৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিক্যাল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার, শুকনা খাবার মজুদ রাখা, ওষুধের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, ইতোমধ্যে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার অফিসে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্তণ কক্ষের ফোন নম্বর ০৪৭১৬৩২৮১।
সভায় জানানো হয়, জেলায় দুর্যোগ মোকাবেলায় ৩২শ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১১৬ টন চাল, ১ লাখ ৯২হাজার টাকা, ১১৭ বানডিল টিন, গৃণ নির্মাণে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি মজুদ আছে।
সভায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করে বলা হয়, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর বিপদ সংকেত আসলে উপকূলীয় মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে হবে। যতদূর সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে মাঠের ফসল ঘরে তুলতে হবে। সংকেত প্রচারে ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকার্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজন সরকার বলেন, “ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে। আমাদের ১৪৩টি সিপিপি টিমের ২ হাজার ১০০স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। ‘নবযাত্রা’ প্রকল্পের আওতায় আরও ১ হাজার ১০০জন কর্মী কাজ করছেন। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকার মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের প্রস্তুত থাকা এবং আশ্রয়কেন্দ্র ও সাইক্লোন সেন্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের সর্তক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকালে যাতে সমস্যা না হয় সেই বিষয় মাথায় রেখে ইউপি মেম্বারদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০ সদস্যরে একটি টিম করা হয়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম না করা পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে সাধারণ উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমালের ক্ষতি কমাতে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষদের নিরাপদে থাকার অনুরোধ করছি। সুন্দরবন ও সাগরে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।’








