সাতক্ষীরার উপকূলে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস হলে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও রমজাননগর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা। দেখা দিতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের উপকূলে আজ শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যায় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন সব নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইলা দুর্গত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, খাজরা, আনুলিয়া ও বড়দল ইউনিয়ন ঘিরে প্রবাহিত কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী। আর দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা ও কোমরপুর এলাকা দিয়ে প্রবাহিত ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে কোথাও কোথাও আর মাত্র এক থেকে দেড় হাত অবশিষ্ট রয়েছে। যেকোনও সময় এটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে প্লাবিত হতে পারে গোটা এলাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, জেলার ৭৯৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কোমরপুর গ্রামের আসাদুল ইসলাম বলেন, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কোমরপুর, কামালকাটি, পূর্বপাতাখালী, চাউলখোলা ও বন্যতলায় বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ওইসব পয়েন্টে বেড়িবাঁধ যেকোনও সময় ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী আসছে শোনার পর এলাকার অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আতাউর রহমান জানান, তার ইউনিয়নের চারদিক কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী । অন্তত ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালে আইলার পর থেকে কোনোরকম এই বেড়িবাঁধগুলো মেরামত করা হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের হিজলিয়া, কোলা, শুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, দয়ারঘাট, মনিপুর, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে আর এক-দুই হাত অবশিষ্ট আছে। এবছর বেড়িবাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়ন অন্তত দশবার প্লাবিত হয়েছে। ‘বাঁধ না ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঘুম ভাঙে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একবার বাঁধ ভাঙলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ তলিয়ে যায়। অবকাঠামো নাজুক হয়ে পড়ে। বাঁধ ভাঙলে সংস্কার করা হয়, ভাঙার আগে বারবার বলা সত্ত্বেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোড পাউবো-১ এর আওতায় ৩৭৭ দশমিক ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অপরদিকে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোড পাউবো-২ এর আওতায় ৪২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে ১৫০ কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, ‘সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ার ভাটার তুলনায় পানি দুই ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের ১১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সেগুলো মেরামতের জন্য জিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
পাউবো-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে নোটশিট পাঠিয়েছি। বাজেট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








