ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে শঙ্কা আর আতঙ্ক বিরাজ করলেও এর তেমন প্রভাব পড়েনি ধানের জেলা দিনাজপুরে। এতে হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন জেলার কৃষকরা। শনিবার (৪ মে) সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর হালকা বাতাস প্রবাহিত হয়।তবে দুপুরের পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি।থেমে যায় বাতাসও। বিকালেই দেখা যায় সুর্যের মুখ।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল জানান, ‘ ঘূর্ণিঝড় ফণী দিক পরিবর্তন করে অন্যদিক দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দিনাজপুর জেলায় এর প্রভাব পড়েনি। বোরো ধান, ভূট্টা ক্ষেত, লিচু ও আমের কোনও ক্ষতি হয়নি।’
তিনি জানান, শুক্রবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দিনাজপুর জেলার ওপর ঘূর্ণিঝড় ফণী প্রবাহিত হয়ে যাওয়ার আভাস ছিলো। এই সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দিনাজপুর জেলার সব কৃষি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রহণ করা হয় বাড়তি সতর্কতা।
কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, ‘দিনাজপুর জেলায় মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে এবার বোরো ধান আবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বোরো -১০ ইতিমধ্যেই পেকেছে। প্রবল বেগে ঝড় প্রবাহিত হলে পাকা ধানের পাশাপাশি বোরো ধান ব্যাপক হারে ক্ষতির সন্মুখীন হতো। এ ছাড়াও দিনাজপুর জেলায় ৬৮ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হচ্ছে। এসব ভুট্টা এখনও মাঠে রয়েছে। ঝড় হলে এসব ভুট্টা ক্ষতির মুখে পড়তো।’
তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী দিনাজপুরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত না হওয়ায় জেলার কৃষকরা এই ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করি। বোরো ক্ষেত ও ভুট্টা ছাড়াও দিনাজপুরে রক্ষা পেয়েছে লিচু ও আম।’
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমার বোরো ধান পাকতে আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ বাকি। এই অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় ফণী বয়ে যাওয়ার খবরে জমির বোরো ক্ষেত নিয়ে আশঙ্কায় ছিলাম। কিন্তু ঝড় দিনাজপুরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত না হওয়ায় আমার বোরো ধান রক্ষা পেয়েছে।’








