সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পা হারালেন সেই সাহসী পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া। গজারিয়া উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সোমবার বিকালে তাকে ধাক্কা দেয় একটি বেপরোয়া কাভার্ডভ্যান। এতে ডান পায়ের গোড়ালি ও হাতে মারাত্মক জখম হয়। জীবন বাঁচাতে মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকালে ডাক্তাররা অপারেশন করে তার ডান পা কেটে বাদ দিয়েছেন। পারভেজের ছোট ভাই মো. মহিউদ্দিন ও গজারিয়ার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কবির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকার রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং সেখান থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। মঙ্গলবার বিকালে পঙ্গু হাসপাতালে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
মো. মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, অপারেশন করে তার ডান পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। ডাক্তাররা তার চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেন। তাকে এ পর্যন্ত ৯ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। গজারিয়ার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কবির হোসেন জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে জামালদি বাসস্ট্যান্ডে একটি কাভার্ডভ্যান ডিউটিরত পারভেজকে ধাক্কা দেয়।
প্রসঙ্গত,২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদপুরগামী এক যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। তৎকালীন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পানিতে নেমে ২০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সাহসিকতার জন্য তাকে দেওয়া হয় পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)।








