ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে এই দুটি সড়কের কোথাও কোনও যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা গোমতী সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে এসব সড়ক যানজটমুক্ত হয়।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে যানজট নিরসন এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এক হাজার দুইশ’ পুলিশ এবং সাড়ে চারশ’ কমিউনিটি পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক মহাসড়কে যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুর অর রশীদ।
শুক্রবার (৩১ মে) সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত কোথাও কোনও যানজট নেই। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু পর্যন্ত ছয় লেন। ছয় লেন থেকে গাড়ি এসে আগে কাঁচপুর পুরনো সেতুতে উঠতো এক লেনে। যে কারণে কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায়ই যানজট ছড়িয়ে পড়ত। কিন্তু চার লেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় শিমরাইল মোড়ে এবার কোনও যানজট নেই।
অপরদিকে মেঘনা টোলপ্লাজা ও কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় প্রতিটি ঈদ উৎসবে যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদের নাকাল হতে হতো। কিন্তু ঈদযাত্রার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চার লেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় মেঘনা গোমতী সেতু খুলে দেওয়ায় এই সড়কে কোনও যানজট নেই। সকাল থেকে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গন্তব্যে।
ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী স্টারলাইন বাসের চালক আহমেদ হুমায়ুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদের আগে আমরা শঙ্কায় থাকতাম, কাঁচপুর, মেঘনা ও মেঘনা গোমতী সেতুর দুই পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হবে। কিন্তু এবার সেই দৃশ্য নেই। রাজধানীর সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টায় কুমিল্লা শহরে পৌঁছাতে পারছি। এতে নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রীদের স্ব-স্ব গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি।’
দাউকান্দির বাসের যাত্রী আসলাম হোসেন বলেন, ‘পুরাতন এক লেন বিশিষ্ট মেঘনা সেতু পার হতে আগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগতো। কিন্তু এখন চার লেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় মেঘনা সেতু পার হতে সময় লাগছে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মিনিট।’
আরেক যাত্রী আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছি। ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার পথে কোথাও কোনও যানজট নেই। সরকার সেতুগুলো খুলে দেওয়ায় এবার এই মহাসড়কের যানবাহনের যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাত্রা করছে।’
এ ব্যাপারে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম আলী সরদার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের ছুটির আগে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। যে কারণে গত দুই দিন ধরে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এবার তিনটি সেতু খুলে দেওয়ায় মানুষ কোনও প্রকার যানজট ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছে।
এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলার কারণে রাস্তায় ছোট-বড় কিছু গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে যানবাহন চলাচলে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনও যানজট ছিল না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভুলতা ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলার কারণে নিচের রাস্তা সরু হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে গাউছিয়া মার্কেটের সামনে ফুটপাতের দোকনিরা অনেকে রাস্তার কিছু অংশ দখল করে ব্যবসা করছে। যে কারণে এই ফ্লাইওভারের নিচে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুলতা ফাঁড়ির পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে কোনও যানজট নেই। ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করছে।’
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার দুইশ’ পুলিশ এবং সাড়ে চারশ’ কমিউনিটি পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এবার মহাসড়কে কোথাও কোনও যানজট হচ্ছে না।’








