সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষের যে দুর্ভোগ ছিল, তার অবসান হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় যাওয়া যায়। গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ ও উত্তর জনপদের জেলাগুলোর দিকে যে যাত্রা, এবারের যাত্রা ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক যাত্রা, যা আমরা জনগণকে উপহার দিতে পেরেছি।
মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাইমাইল এলাকায় সাসেক প্রকল্পের সাইড অফিসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ উপহার হিসেবে দুটি উড়াল সেতু, কয়েকটি ওভারপাস, কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতিসহ অনেকগুলো সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এবারের ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করেছেন। এটা দেশবাসী উপলদ্ধি করছে। সড়ক নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ নেই। এবার সড়কের যাত্রা স্বস্তিদায়ক।’
তিনি বলেন, ‘টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনা ও রংসাইডে গাড়ি চালানোর জন্য কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এই মুহূর্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করছি, ঘরমুখো মানুষষেরা কর্মস্থল থেকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারবে। এ বিষয়টি বিশেষভাবে নজর দিয়েছি।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে। পরিবহন ও সড়কে যে বিশৃঙ্খলা বিরাজমান সেগুলো দূর করতে হবে। সড়কগুলো অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করতে হবে। যে অভিযান আমি অনেক আগেই শুরু করেছি। এটা এখনও পুরোপুরি সফলতার মুখ দেখেনি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ার। যে মামলায় তিনি কারাবন্দি ও সাজা পেয়েছেন, সেই মামলা বর্তমান সরকারের আমলে হয়নি। মামলাটি হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এটা আদালতের বিষয়। বিএনপির আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে, তিনি (খালেদা জিয়া) নির্দোষ। তারপরও আরেকটা পথ আছে, সামগ্রিকভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবিতে চাপ সৃষ্টি করা। খালেদা জিয়া গত ১৫ মাস ধরে কারাগারে আছেন। বিএনপি এপর্যন্ত রাজপথে কোনও আন্দোলন করতে পারেনি। জনগণ সারা দেয়নি। সেটা তো আমাদের দোষ না। এটা তাদের ব্যার্থতা।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সানাউল হক, সাসেক প্রকল্প পরিচালক ইছহাক আলী, সওজের ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান ও গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।








