নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকার কুতুবপুরে নিখোঁজের ১৭ দিন পর মিনু আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে র্যাব। শুক্রবার বেলা ১২টায় মঞ্জুরখোলা এলাকার একটি বিলের মধ্যে বালিচাপা দেওয়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্বামী জোনায়েদ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন।
এ বিষয়ে র্যাব ১১-এর সিও লে. কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগ আসার পরপরই র্যাব বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিনু আক্তারের সাবেক স্বামী জোনায়েদকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে বৃহস্পতিবার (৬ জুন) গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে জোনায়েদ মিনুকে হত্যা ও লাশ গুমের কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যে মঞ্জুরখোলা বিল থেকে বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার এবং ভাড়া বাড়ির পাশের পুকুর থেকে জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়।’
র্যাবে সিও আরও বলেন, ‘র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জোনায়েদ জানায়, প্রথম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সে ২১ মে রাতে সাবেক স্ত্রী মিনু আক্তারকে বাসায় ডেকে এনে তার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে মিনু বেগম তার পাওনা টাকার জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিনু ব্গেম ঘরে থাকা একটি পুরনো বঁটি দিয়ে জোনায়েদকে আঘাতের চেষ্টা করে। এ সময় জোনায়েদ মিনু বেগমকে লাঠি জাতীয় কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে গলা টিপে তাকে হত্যা করে। ভোরে ঘর থেকে টেনে লাশ বের করে বাড়ির পাশের পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর ( ২৩ মে) রাতে লাশ বিবস্ত্র করে পুকুরের পাশের একটি বিলের মধ্যে হাত দিয়ে বালু খুঁড়ে বালির নিচে চাপা দিয়ে রাখে। জামাকাপড় পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরের দিন সকালে সে পালিয়ে যায়।’
নিহত মিনু আক্তারের মা মদিনা বেগম জানান, গত ২১ মে রাতে মিনুকে মোবাইল ফোনে কে বা কারা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই মিনু নিখোঁজ হন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। মিনুর কোনও খোঁজ না পেয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে জোনায়েদের বাড়িতে গিয়ে মিনুর খবর জানতে চাইলে সে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন তিনি বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
মামলার পর পুলিশ জোনায়েদের বাসা থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি এবং নারীর মাথার লম্বা চুল জব্দ করে; কিন্তু জোনায়েদকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ২৩ মে ওই জিডির কপি নিয়ে মদিনা বেগম র্যাব-১১ কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেন।
নিহতের মা আরও জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর এলাকার জোনায়েদ আহমেদ কাঁচপুরের কুতুবপুরের অলিম্পিক ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে কাজ করার সুবাদে তার মেজ মেয়ে মিনু আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। এটি ছিল জুনায়েদের দ্বিতীয় এবং মিনুর পঞ্চম বিয়ে। মিনুর আগের সংসারে তিন ছেলে রয়েছে। এক বছর আগে জোনায়েদ মিনুকে তালাক দেয়। কিন্তু পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় মিনুর সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে তাদের কয়েক দফা ঝগড়া হয়।








