ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাড়ে পাঁচ টন আটককৃত চালসহ, আটককৃত তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যার পর যাচাই-বাছাই শেষে চালসহ আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর সড়ক বাজার থেকে ভিজিএফের সন্দেহে ট্রাকভর্তি এ চাল জব্দ করা হয়েছিল।
আটকের পর ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন– গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদের চাচাতো ভাই নূরপুর গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪৫), একই ইউনিয়নের পাঠানিশা গ্রামের জেরবাজ খাঁর ছেলে ট্রাকচালক মিজান মিয়া (৩৮) এবং ট্রাকের চালকের সহযোগী নূরপুর গ্রামের মাসুক মিয়া (২২)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে এ চাল ভিজিএফের সন্দেহে আটক করা হয়। এ সময় ওই তিনজনকেও আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামিউল আলিম, গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী জাহানসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে চালগুলো সরকারি ভিজিএফের চাল কিনা পরীক্ষা করে দেখা হয়।
এ সম্পর্কে নাসিরনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামিউল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি চাল রয়েছে। খাদ্য অধিদফতরের সিলযুক্ত কোনও বস্তা পাওয়া যায়নি। তাই এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শামীম আহমেদ বলেন, ‘ভিজিএফের চাল ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। চাল বিতরণে অনিয়ম হলে সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ট্রাকভর্তি সাড়ে পাঁচ টন চালসহ তিনজনকে আটক করেছিলাম। ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চালগুলো সরকারি কিনা যাচাই করা হয়। জব্দকৃত চাল সরকারি ভিজিএফের চাল নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। কারও কোনও অভিযোগ না থাকায় চালগুলো মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল কবির ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম জানান, চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। অনিয়ম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








