পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে অনেকেই ফিরছেন কর্মস্থলে। তবে ফেরার সময় মহাসড়কে যানজট না থাকলেও অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের। বাসের সংখ্যাও অনেক কম বলে বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে যাত্রীদের অনেকে জানান। রবিবার (৯ জুন) গাজীপুরের চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইতোমধ্যে অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি অফিস খুললেও সোমবার (১০ জুন) গাজীপুরের বেশিরভাগ পোশাক কারখানা একযোগে খুলছে। ফলে রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা চন্দ্রা ত্রিমোড়ে এখন কর্মস্থলে ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের সংযোগস্থল গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক কম দেখা গেছে। ফলে চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে রাজধানীতে প্রবেশের এবং গাজীপুর অভিমুখে দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকট। আর এই সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া। বাস, অটোরিকশা, সবকিছুতেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা শরিফ জানান, চন্দ্রা থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে কোনও গণপরিবহন ছেড়ে যাচ্ছে না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর একটি বাস এলেও তাতে ভাড়া তিনগুণ বেশি। তিনি বলেন, ‘চন্দ্রা থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তার ভাড়া ২০-৩০ টাকা। অথচ এখন ৭০-১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নিরুপায় হয়েই আমাদের যেতে হচ্ছে।’
বগুড়া থেকে আসা ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি সাভারের হেমায়েতপুরে যাবেন। অন্যান্য সময় এই মহাসড়কে বিভিন্ন সিটিং সার্ভিসের নামে গণপরিবহন থাকলেও আজ সেগুলোর দেখা নেই। তাই বাধ্য হয়েই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে বসেছেন। ভাড়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে তাকে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। এরপরও আবার গাড়ি বদল করতে হবে। চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে নবীনগরের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা, অথচ আজ নেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।
ঈদ শেষে সড়কপথে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কগুলোতে কোথাও কোনও যানজট নেই। তবে কিছু বাসস্ট্যান্ড ঘিরে রয়েছে পরিবহনের জটলা। আর আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া।
গাজীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান উদ্দিন জানান, ঈদের সময়ে গণপরিবহনের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে রিজার্ভ (ভাড়ায়) চলে গেছে। সেই পরিবহনগুলো এখনও টার্মিনালে এসে পৌঁছতে পারেনি। ফলে সড়কে গণপরিবহনের কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলতে চাননি।
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।








