দিন সাধারণ বেশে ভ্যান-রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে, আর রাত হলেই ডাকাত সেজে মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। ‘লুঙ্গি বাহিনী’ নামে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ চালায় ওই চক্রটি। ঢাকাসহ সাভার, আশুলিয়া, দোহার, নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় ছয়-সাত বছর ধরে রাস্তা ও বসতবাড়িতে ডাকাতি করে আসছে এই চক্রের সদস্যরা। প্রতিটি ডাকাতির কাজ শেষে অস্ত্র ফেলে দিয়ে আবার নতুন অস্ত্র কেনে তারা। এছাড়াও রাতে ডাকাতি শেষে জঙ্গলে বা লোকালয়ের বাইরে লুকিয়ে থেকে সকাল হলেই আবার যার যার কাজে ফিরে যায় এই অপরাধীরা।
শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে সাভার মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান জানান, নবাবগঞ্জের একটি ডাকাতি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের খোঁজ পাওয়া যায়। এই ‘লুঙ্গি বাহিনী’র ১৭ সদস্যকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার জানান, এই বাহিনীর ডাকাত দলের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আরেক সদস্য নিহত হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সাইফুল গ্রুপ, রিপন গ্রুপ ও মোটা বাবুল গ্রুপ নামের তিনটি গ্রুপে বিভিক্ত হয়ে প্রায় ৫০ জন সদস্য রয়েছে এই বাহিনীতে। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ডাকতরা মূলত ঢাকাসহ সাভার, আশুলিয়া, দোহার, নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় ছয়-সাত বছর ধরে রাস্তা ও বসতবাড়িতে ডাকাতি করে আসছে। এরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে আসছিল। সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ১৭ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও এরইমধ্যে ৮ জুন কেরানীগঞ্জে সাইফুল গ্রুপের প্রধান সাইফুল আলম শেখ (৪৫) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এছাড়া গত ১০ জুন আশুলিয়ায় দুই গ্রুপ ডাকাত দলের গোলাগুলিতে মোটা বাবুল গ্রুপের প্রধান বাবুল হাওলাদার (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। লুঙ্গি বাহিনীর অপর সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ ও আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাবেদ মাসুদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








