চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এ সময় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ২৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২২৫ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দর দিয়ে বেশি রাজস্বযুক্ত পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্বিমুখী আচরণের কারণেই বন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মূলত কাস্টমসের দ্বিমুখী নীতির কারণেই হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ হলো, দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি করা পণ্য পরীক্ষা করে ঠিক যেটুকু পণ্য থাকবে সেই পরিমাণ পণ্যের শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে উল্টো নিয়ম, গাড়ির চাকার স্ল্যাব অনুযায়ী শুল্কায়নের প্রথা চালু করা হয়েছে। এর ফলে একজন আমদানিকারক একটি ট্রাকে ১০ টন ফল আমদানি করলেও গাড়ির চাকা অনুযায়ী তাকে ১৪ থেকে ১৫ টনের শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিড়ম্বনা রয়েছে যেমন একই পণ্য অন্যান্য বন্দর দিয়ে কম মূল্যে শুল্কায়ন করা হলেও হিলি স্থলবন্দরের ক্ষেত্রে বাড়তি মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়। এর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি করলে বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া এসব শুল্কযুক্ত পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে হওয়ার কারণে চার-পাঁচ দিন সময় লেগে যায় যেখানে অন্য বন্দর দিয়ে কম সময়ে ছাড় দেওয়া হয়। এসব লোকসানের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছেন। তবে দেশের অন্য বন্দরগুলোর মতো হিলি স্থলবন্দর পরিচালনা করা হলে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি যেমন বাড়বে তেমনি বন্দরের রাজস্ব আহরণও বাড়বে।’
হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট আব্দুর রহমান লিটন ও হানিফ লস্কর বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফলের ট্রাক ১৪ থেকে ১৫ টন শুল্ক পরিশোধ করে বন্দর থেকে ছাড় করা হয়। ঠিক একই পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক সোনামসজিদ ও ভোমরাসহ অন্য বন্দর দিয়ে ১০ থেকে ১২ টন শুল্ক পরিশোধ করে বন্দর থেকে ছাড় করা হয়। এতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এ কারণে ফল আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হন।’
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক এ বিষয়ে বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাস থেকে ভারতের ভেতরে ফারাক্কা ব্যারেজের সংস্কার কাজ চলার কারণে বন্দর দিয়ে পাথরসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরে রাজস্ব আহরণের মূল পণ্যই ছিল পাথর। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে আগে প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি হলেও বর্তমানে চাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি ও দেশের বাজারে চালের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি না হওয়া এবং বেশিরভাগ পণ্যই শুল্কমুক্ত ও কম শুল্কযুক্ত হওয়ার কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ফারাক্কা ব্যারেজের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় বন্দর দিয়ে আবারও পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দর দিয়ে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি বাড়লে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।’








