শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় রাঙামাটির সঙ্গে সাতটি উপজেলার লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। কিছুদিন ধরে বর্ষায় হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় আড়াই মাস পর শনিবার (২২ জুন) থেকে আবারও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
লংগদু মাইনী রুটের আব্দুল আলিম ও আমির হোসেন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, অল্প টাকা দিয়ে লঞ্চে যাওয়া আসা করা যায়। পানি কম থাকার কারণে স্পিড বোট দিয়ে এতদিন চলাচল করতাম। ভাড়া বেশি হওয়ায় খুব জরুরি কাজ ছাড়া রাঙামাটি আসি নাই। আজ (শনিবার) থেকে লঞ্চ চলাচলা শুরু হয়েছে এতে আমরা খুশি ।’
বরকল রুটের মো. আরিফ জানান, আমার রুটে আগে ছোট বোট দিয়ে আসা যাওয়া করতাম। যেখানে আগে রাঙামাটি আসতে তিন ঘণ্টা লাগতো, সেখানে ছোট বোটে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লাগে। এখন লঞ্চ চলাচল শুরু হওয়ায় সময় কম লাগবে।’
গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের কারণে এবং উজানের দিকে ভারত অংশে বৃষ্টি হওয়ায় হ্রদের পানি কিছুটা বেড়েছে। আপাতত লংগদু উপজেলার মাইনী, বরকল উপজেলা সদর এবং নানিয়ারচর ও জুরাছড়ি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে হৃদের পানি আরও বাড়লে নানিয়ারচর ও জুরাছড়ি সদর এবং বরকল রুটে ছোট হরিণা পর্যন্ত যাওয়া যাবে।
রাঙামাটির লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থার রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম লঞ্চ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা শনিবার থেকে ছোট লঞ্চগুলো চালু করেছি। কাপ্তাই হ্রদে এখন যে পানি আছে, তা নৌ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নয় এবং যাত্রী কম হওয়ায় আমরা প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ২০ টাকা করে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি, শিগগিরই লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হলে পুরনো ভাড়াই বহাল থাকবে।’
যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘গত আড়াই মাস ধরে যাত্রীরা কষ্ট করেছেন, লঞ্চ শ্রমিকরাও বেকার ছিল। এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।’








