ঘুষ দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ: ভৈরব থানার ১৪ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
২৮ জুন ২০১৯, ১২:০৮আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ১২:১৭

কিশোরগঞ্জ হত্যা মামলার আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে ঘুষ দাবি ও পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার দুই পরিদর্শক, আট এসআই ও চার কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। অথচ ওই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত শেখ আশরাফুল আলম বিজন অন্য একটি মামলায় কিশোরগঞ্জ কারাগারে বন্দি ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

ভৈরব উপজেলার সদরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের শেখ সাদিয়া সুলতানা ও একই এলাকার শেখ শাহানাজ আক্তার সুমনা বাদী হয়ে বুধবার কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সায়েদুর রহমান মামলা দুটির প্রাথমিক অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ সুপার এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ সমন্বিত কার্যালয়ে সব কাগজপত্র পাঠানোর আদেশ দেন।

শেখ সাদিয়া সুলতানা দায়ের করা মামলায় ভৈরব থানার এসআই আনোয়ার হোসেন মোল্লা, পরিদর্শক তদন্ত মো. বাহালুল হক খান ও পরিদর্শক মুখলেছুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সাদিয়ার ভাই শেখ আশরাফুল আলম বিজনকে ভৈরব থানার একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ওই বছরের ১১ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান বিজন। এ মামলায় কারাগারে থাকার সময় সংঘটিত অন্য একটি হত্যা মামলায় পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে এ মামলায় জামিন পেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ এ বছরের ১৪ জানুয়ারি বিকালে বিজন ভৈরব থানায় যান। এ সময় ভৈরব থানার এসআই ও দুই পরিদর্শক হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়।

অপরদিকে শেখ আশরাফুল আলম বিজনের স্ত্রী শেখ শাহনাজ আক্তার সুমনা বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগে ভৈরব থানার দুই পরিদর্শক, আট এসআই ও চার কনস্টেবলকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ভৈরব থানার একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি পুলিশ বিজনকে আটক করে। একেই বছরের ১১ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু বিজন জেলে থাকার সময় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সংগঠিত অপর একটি হত্যা মামলায় বিজনকে আসামি দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

গত ১৮ মে পুলিশ বিজনকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। আহত অবস্থায় থাকে কারাগারে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে তাকে জেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আদালত বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য আমার কাছে পাঠিয়েছে বলে শুনেছি। আমি ঢাকায় থাকায় এখন পর্যন্ত কাগজপত্র দেখিনি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

 

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম