রংপুর অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন বেশি ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে। মোট ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিকটন। অনুকূল আবহাওয়া, বীজ, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সংগ্রহে কোনও সমস্যা না হওয়ায় এবার ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, এবার রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে ৮৩ হাজার ১শ’ ৯২ মেট্রিকটন জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবার কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হাজার ২শ’ ৫৩ হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন কৃষক।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, এবার কোনও রোগবালাই ছিল না, আবহাওয়া ছিল পুরোপুরি অনুকূলে। সে কারণে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি জানান, এবার ভুট্টার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি হয়েছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ২৫ থেকে ২৭ মন আর হেক্টর প্রতি ৯ দশমিক ৯৯ মেট্রিকটন।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ঢুসমারার চর এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন ভুট্টা চাষির সঙ্গে কথা বলে ভুট্টা ফলন বেশি হওয়ার কারণ জানা গেছে। ওই এলাকার কৃষক নবাব আলী ও মেরাজ উদ্দিন জানান, প্রতি একর জমিতে ভুট্টা চাষ করতে খরচ পড়েছে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা। আর ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ মণের মতো। প্রতি মণ ভুট্টা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি একরে ভুট্টা চাষ করে খরচ বাদ দিয়ে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। ধান চাষে খরচ যেমন বেশি আবার ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না। সে কারণে বোরো ধান চাষ না করে ভুট্টা চাষ করেছেন তারা। একই এলাকার কৃষক আজমা বেগম ও সাহেব আলী জানান, মূলত চরাঞ্চলের জমিতে ভুট্টা চাষ বেশি হয়।
রংপুর জেলা মার্কেটিং অফিসার হাসান সরোয়ার জানান, ভুট্টার চাহিদা বেশি হওয়ায় বাজারে প্রতি মণ ভুট্টা ৬ থেকে সাড়ে ৬ শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে চাহিদা তেমন না থাকলেও এখন দেশের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান ভুট্টা কিনছে।
রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মুহাম্মদ আলী বলেন, ভুট্টা এখন কৃষকদের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কৃষকরাও ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে করে প্রতি বছর ভুট্টা চাষে জমির পরিমাণও বাড়ছে।








