কুষ্টিয়ায় পদ্মার অনাবাদি চরে বাদাম চাষে সাফল্য

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া
১০ জুলাই ২০১৯, ১৬:৫২আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৮

বাদামের চাষে কৃষক নতুন স্বপ্ন দেখছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার অনাবাদি চরে বাদাম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। পতিত বালুময় এসব চরে আগের তুলনায় বাদামের চাষ অনেক বেড়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় উৎসাহী হচ্ছেন কৃষকরা। সরকারি পরামর্শ ও প্রণোদনা পেয়ে কৃষকরা এ সফলতা পেয়েছেন বলে মনে করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।    

সরেজমিন দেখা গেছে, দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে বাদাম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন দরিদ্র চাষিরা। তারা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হলে চাষিরা বাদাম চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ মৌসুমে ৪১৫ হেক্টর জমিতে চরাঞ্চলে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। বিঘাপ্রতি প্রায় পাঁচ মণ করে ফলন হয়েছে।

উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর গ্রামের বাদাম চাষি সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেগে ওঠা পদ্মা নদীর বুকজুড়ে একসময় ধু-ধু বালুচর লক্ষ করা যেত। যা চরবাসীদের কোনও কাজেই আসতো না। গত কয়েক বছর আগে চাষিরা স্বল্প পরিসরে চিনাবাদামের চাষ শুরু করেন। এতে সাফল্য পাওয়ায় ক্রমশ এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রায় ২৫শ’ টাকা মণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হওয়ায় দরিদ্র চাষিদের সংসারে সুদিন ফিরেছে।’ তিনি জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে চরজুড়েই অর্থকরী ফসল বাদাম চাষ করে আরও বেশি সাফল্য পাওয়া যাবে।

রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘এবার সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় বাদামের ফলনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তারপরও এবার এক বিঘা বাদাম চাষ করে প্রায় ছয় মণ ফলন পেয়েছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম ভালো থাকায় লাভ হয়েছে।’

একই গ্রামের জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষার পানিতে চরাঞ্চলে ক্ষেত তলিয়ে যায়। সেজন্য একটু আগেভাগেই বাদাম রোপণ করা হয়, যাতে পানি আসার আগেই বাদাম তোলা যায়। সাধারণত আষাঢ় মাসের মধ্যেই বাদাম তোলা শেষ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ করতে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ ছয় থেকে সাত হাজার টাকা খরচ হয়।’

বাদাম ক্ষেতে কাজ করে দিনমজুররাও খুশি। আয়েশা খাতুন নামে এক নারী শ্রমিক জানান, বাদাম গাছ থেকে বাদাম ঝরিয়ে প্রতিদিন তারা পান আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সজীব আল মারুফ বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রায় দুইশ’ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়ায় এ বছর বাদাম চাষ বেড়েছে। তবে বৃষ্টিপাতের কারণে এবার বাদামের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রায় ২৪শ’ থেকে ২৫শ’ টাকায় এক মণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে। ফলন কিছুটা কম হলেও ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা খুশি।’

 

/আইএ/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম