গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি) এর মা ও শিশুদের কল্যাণে যত্ন প্রকল্পের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ইউপির চেয়ারম্যান-মেম্বাররা প্রকল্পের কোনও নিয়মনীতি অনুসরন না করে অর্থের বিনিময়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করে তালিকা প্রস্তুত করেছেন। ফলে ফরম তুলেও বাদ পড়েছেন প্রকৃত দরিদ্র সুবিধাভোগীরা আর বঞ্চিতদের বদলে সচ্ছল, বিত্তবান এমনকি চাকরিজীবী পরিবারের মা ও শিশুরা তালিকাভুক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বরত কর্মীদের বিরুদ্ধে ১০ জুলাই সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন জামালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের ভুক্তভোগী মায়েরা।
জানা যায়, চুড়ান্ত তালিকভুক্ত ১৩৮৬ জনের অধিকাংশই স্বচ্ছল পরিবারের নারী ও শিশু। অধিকাংশই প্রভাবশালী ও সম্পদশালী পরিবারের। তাদের অনেকের পাকা বাড়ি, ১০-১৫ বিঘা আবাদি জমি, ব্যবসা এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবিও রয়েছেন।
বড় জামালপুর গ্রামের শাহীন শেখের স্ত্রী রতনা বেগম, জামিলুরের স্ত্রী মনিরা বেগম ও হারুনের স্ত্রী রিনা বেগম জানান, অভাব-অনাটনে সংসার চলে। সংসারে শিশু রয়েছে। পুষ্টি ভাতার কার্ডের জন্য ফরম তুলে পূরণ করে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যান, মেম্বারদের দাবি করা তিন হাজার টাকা দিতে পারি নাই। এ কারণে পুষ্টি ভাতার কার্ড জোটেনি। অথচ বাড়ি পাশের সচ্ছল অনেক পরিবার অর্থের বিনিময়ে পুষ্টি ভাতার কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
বড় জামালপুর গ্রামের আফরুজা বেগম বলেন, ‘কার্ড করে দিতে চেয়ারম্যানের কথা বলে তাদের কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলো স্থানীয় কয়েকজন। কিস্তু শেষ পর্যন্ত টাকা দিতে না পারায় তালিকায় নাম ওঠেনি তাদের’।
এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ফকির বলেন, ‘যত্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করতে কোনও নিয়মেই অনুসরণ করা হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের তদারকি কর্মকর্তা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে সচ্ছলদের তালিকাভুক্ত করেছেন। ’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডল বলেন, ‘মাইকিংসহ প্রচারণা চালিয়ে সুবিধাভোগীদের যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুসরণ ও সরেজমিনে পরির্দশন করেই প্রকৃত সুবিধাভোগী বাছাই করা হয়। কারও কাছে টাকা নেওয়া হয়নি, টাকা আদায়ের অভিযোগটি সম্পন্ন মিথ্যা।’
এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নবী নেওয়াজ বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় ফরম উত্তোলনের সময়েই নোটিশ এবং মাইকিং করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও প্রকল্পে নাম তালিকাভুক্ত করতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়মের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শাহারিয়া খান বিপ্লব বলেন, ‘প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে কোনও অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ সহ্য করা হবে না। বিভিন্ন ইউনিয়নের অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তবে এ বিষয়ে আইএসপিপি ইউনিয়ন অ্যাসিস্ট্যান্টসহ দায়িত্বরত মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে তাদের দাবি, প্রকল্পের আওতায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, মেম্বারাই করেছেন।








