মাকে চিকিৎসা করাতে এসে কলাপসিবল গেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছেলের মৃত্যু!

বরিশাল প্রতিনিধি
১৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৯আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৪৭

শোকাহত পরিবার

বরিশাল নগরীর সদর রোডের বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মাকে ডাক্তার দেখাতে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছেলে সুমন শীলের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর ছেলেটিকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি কক্ষে আটকে রাখায় তার মৃত্যু হয় বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পেশায় সেলুন ব্যবসায়ী নিহত সুমন ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় জ্যাকব টায়ার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বিমল চন্দ্র শীলের ছেলে।

রবিবার রাত ১২টায় এই ঘটনা ঘটে।

শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় সুমনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের মামা অমল শীল জানান, দিপালী রানীর চিকিৎসার জন্য ভাগ্নে সুমন শীল রবিবার রাতে ডা. অমিতাভ সরকারের চেম্বার বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায়। বেলভিউ এর প্রধান ফটক পেরুনোর সময় সেখানকার কলাপসিবল গেটে হাত দিয়ে ষ্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দিপালী রানী নিচে পড়ে যাওয়ার সময় সুমন তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে গিয়ে নিজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

নিহতের মা দিপালী রানী জানান, সুমন পড়ে থাকার পর বেলভিউ এর লোকজন তাকে একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। কিন্তু সুমনকে কোনও চিকিৎসা দেয়নি। এমনকি আমাদেরও সুমনের ধারে যেতে দেওয়া হয়নি। রাত ১২টার দিকে বেলভিউ কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সে করে সুমনকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রেরণ করে।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল সাকিব রাত ১২টা ৫মিনিটে সুমনকে মৃত ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মেডিক্যালে আনার পূর্বেই সুমন মারা যান।

এ ব্যাপারে বেলভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক নঈমুল হক মাসুদ বলেন, ‘সুমন শীলের ঘটনাটি তাদের কম্পাউন্ডের মধ্যে নয়, বাইরে হয়েছে। সে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়নি। সে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। আহত হওয়ার পর বরং বেলভিউ কর্তৃপক্ষ তাকে মেডিক্যালে পাঠিয়েছে।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, সুমন শীলের মৃত্যুর ঘটনায় বেলভিউ কর্তৃপক্ষের কোনও অবহেলা কিংবা গাফিলতি ছিলো কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের লাশের ময়না তদন্ত করে এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম