এখনও পানি বাড়ছে করতোয়া ও বাঙালি নদীতে। সোমবার (২২ জুলাই) সকাল পর্যন্ত করতোয়ার পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রবল চাপে বাঁধের তিনটি পয়েন্ট ধসে প্লাবিত হয়েছে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসহ ৮ ইউনিয়নের বির্স্তীণ জনপদ। নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলাখ মানুষ। তলিয়ে গেছে আখসহ শতশত হেক্টর জমির ফসল। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুর ও খামারের মাছ।
এদিকে জেলার কয়েকটি উপজেলায় ১১ দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে ৫ লাখের বেশি মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তবে কমতে শুরু করেছে গাইবান্ধা সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি।
অপরদিকে, পানির প্রবল চাপে গাইবান্ধা জেলা শহরের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাইবান্ধা-বালাসি সড়কেও যানবাহন চলাচল বন্ধ। এছাড়া গাইবান্ধার বাদিয়াখালিতে পানির প্রবল চাপে রেল লাইনে স্লিপার ধসে গেছে। বিকল্প পথে গাইবান্ধা-সান্তাহার, রংপুর-লালমনিরহাটে ট্রেন যোগাযোগ করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের বন্যা পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার দুই পৌরসভাসহ ৫১ ইউনিয়নের ৩৯০টি গ্রামের পাঁচ লাখ ১৪ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে আছেন। ৪৫ হাজার ৪৯৫টি বসতবাড়ি পানির নিচে। তার মধ্যে পানিবন্দি ৭৪ হাজার লোক জেলার ১৮৪টি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এবং ২৩৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৬৩ কিলোমিটার বাঁধ ও ২১টি কালভার্ট। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১১ হাজার ৯২৮ হেক্টর বিভিন্ন ফসলি জমি। ৪০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম বন্ধ। ভেসে গেছে ছয় হাজার ৬৫৮টি পুকুরের মাছ। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৯ হাজার ২২৪টি টিউবওয়েল। গত সাতদিনে পানিতে ডুবে চার শিশুসহ পাঁচজন ও সাপের কামড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৪০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, বন্যা কবলিত উপজেলাগুলোতে জেলা ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে এক হাজার মেট্রিকটন ও ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছয় হাজার কার্টন শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার মেট্রিকটন চাল, নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা, ৫ হাজার ৫৫০ কার্টন শুকনো খাবার, ২৫০টি ত্রিপল ও ৫০০ পানির জারকিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৫০০ বান্ডেল ঢেউটিন বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।
গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হানিফ জানান, দুর্গত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে ৭৫টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। প্রতিটি টিম দুর্গত মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দিচ্ছে। এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণে ট্যাবলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিয়েও কাজ করছে মেডিক্যাল টিম।








