ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার বাবা ও সৎ ভাইকে আটক করা করেছে পুলিশ। ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই ভুষণ চন্দ্র বর্মন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ি পশ্চিম মুন্সিপাড়া এলাকা থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রফিকুল ইসলাম (৩৭) কচুবাড়ি পশ্চিম মুন্সিপাড়া এলাকার দবিরুল ইসলামের ছেলে। দবিরুল ইসলাম (৫৫) ও তার ছেলে সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে এসআই ভুষণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম স্ত্রী জাহেদা বেগমের সঙ্গে সংসারের বিচ্ছেদ ঘটে দবিরুল ইসলামের। ওই ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলে হয়েছিল। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দবিরুল ইসলাম দ্বিতীয় বার সালেহা খাতুন নামে আরেকজনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, প্রথম স্ত্রীর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। ছেলে রফিকুল ইসলাম তার বাবা দবিরুল ইসলামের বাড়িতেই সৎ মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে ছিলেন। প্রায় সময় নানা কারণে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার সৎ মা সালেহা খাতুন ও তার সৎ ভাই-বোনদের ঝগড়া হতো। এসব নিয়েই রফিকুল আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ঘরে রফিকুলের গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশ মনে করছে এটি হত্যাকাণ্ড। লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ নিহতের বাবা দবিরুল ইসলাম ও সৎ ভাই সাইফুল ইসলামকে আটক করে।
এসআই ভুষণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘সুরতহাল রিপোর্ট করার সময় নিহত রফিকুল ইসলামের কোমড়ের নিচ অংশে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে এবং সেসব দাগ থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড।’
তিনি জানান, নিহত রফিকুল ইসলামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিহত রফিকুলের শরীরে আঘাতের দাগ সম্পর্কে থানায় আটক বাবা দবিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলে রফিকুল মানষিক ভারসাম্যহীন ছিল। কারও সঙ্গে মারপিট করে আসার পরে সে ঘরে আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা তাকে হত্যা করিনি।’








