প্রবাসী নারীর স্বামী কাঞ্চন শিকদার (২২)-কে গলাকেটে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে নিয়ে এসে আটক হয়েছে চার তরুণ। হত্যার পর এই ঘটনাকে ‘গলাকাটা’ গুজব বলে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কাঞ্চনের বাড়ি বাগেরহাটে।
রবিবার (২৮ জুলাই) বিকালে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপারের সভা কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ্।
আটক চারজন হলো- বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার গোড়ফা গ্রামের রাসেল শেখ (২৪), নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার সজীব (১৯), নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জ গ্রামের কাউসার (২০) ও পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার নলুয়াবাগি গ্রামের মিরাজ হোসেন (১৯)।
আটকদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ্ বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বছর আগে তানিয়ার বিয়ে হয়েছিল কাঞ্চনের সঙ্গে। বিয়ের পর তানিয়া চলে যায় সৌদি আরবে। সেখানে একটি বিউটি পারলারে কাজ করে সে। বছর দুয়েক আগে রাসেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেম হয় তানিয়ার। স্বামী কাঞ্চনকে হত্যার পর রাসেলকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। এজন্য ২০ হাজার টাকা রাসেলের কাছে পাঠিয়েছিল। এরপরই পাসপোর্ট করানোর কথা বলে কাঞ্চনকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাগেরহাট থেকে রাজশাহীতে নিয়ে আসে রাসেল ও তার তিন বন্ধু। শনিবার রাতে চারঘাট উপজেলা ফুলতলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।’
পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ্ আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ছেলেধরা বা গলাকাটা গুজবের সুযোগ নিতে চেয়েছিল রাসেল। কাঞ্চনকে হত্যার পর গলাকাটা বলে প্রচারের চেষ্টা পরিকল্পনা ছিল তাদের। এজন্য কয়েকদিন আগে রাজশাহীর চারঘাটের ফুলতলা এলাকার একটি বাগানকে বেছে নেয় হত্যাকাণ্ডের স্থান হিসেবে। ওই স্থানের ছবি তানিয়ার কাছে সে ইমো’র মাধ্যমে পাঠায়। ছবি দেখার পর তানিয়াও ওই বাগানটিকে নিরাপদ স্থান মনে করে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেয়। পরিকল্পনা মতো পাসপোর্ট করানোর নাম করে তানিয়ার স্বামী কাঞ্চনকে রাসেল ও তার তিন বন্ধু মিলে ট্রেনে করে রাজশাহী নিয়ে আসে। এরপর মিরাজ ও কাউসার কাঞ্চনকে নিয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চারঘাট উপজেলার সেই আমবাগানের উদ্দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রওয়ানা হয়। ফুলতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে কাঞ্চনের মনে সন্দেহ হয়। সে তখনই চিৎকার করতে করতে দৌড় দেয়। এসময় বাজারের লোকজন মিরাজ ও কাউসারকে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ছুরি ও চেতনানাশক ওষুধ জব্দ করেছে। পুলিশের জেরার মুখে তারা মূলপরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে রাসেল ও সজীবকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, কাঞ্চনকে হত্যার বিষয়ে তানিয়ার সঙ্গে রাসেলের ফোনালাপ ও ইমোতে কথোপকথনের অডিও পাওয়া গেছে। রাসেল শেখ নিজেকে কাঞ্চনের প্রবাসী স্ত্রী তানিয়ার প্রেমিক বলে দাবি করেছে।








