নগর উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে চলতি অর্থ বছরের জন্য দুই হাজার ৪৮৫ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বাজেটে নগর উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা।
এই বাজেট আ জ ম নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সিটি করপোরেশনের পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের শেষ অর্থ বছরের বাজেট। এর আগে মেয়র গত অর্থ বছরের দুই হাজার ৪৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট পেশ করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন অনুদান খাতে সবোর্চ্চ আয় দেখানো হয়েছে। এই খাতে এক হাজার ৭০২ কোটি টাকা আয় দেখানো হয়েছে। এরপর সর্বোচ্চ আয় কর খাতে দেখানো হয়েছে। এই খাত থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আয় দেখানো হয়েছে ৪৭৮ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
গত অর্থ বছরের উন্নয়ন অনুদান লক্ষ্য এক হাজার ৬৮০ কোটি টাকার বিপরীতে সংস্থাটি এক হাজার ৫৫৫ কোটি ৮৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা উন্নয়ন সহযোগিতা পায়। সেই প্রত্যাশায় এবার এক হাজার ৭০২ কোটি টাকা এই খাতে আয় ধরা হয়েছে। অন্যদিকে গত বছর হাল কর আদায় খাতে ১৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা আদায়ের টার্গেটে প্রায় ৯০ কোটি ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা আদায় হয়। পাশাপাশি যা মোট লক্ষ্যের প্রায় ৬২ দশমিক ৬১ শতাংশ। সেই ধারাবাহিকতায় এই ২০১৯-২০ অর্থ বছরেও ১৪৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া গত অর্থ বছরে অন্যান্য কর আদায় খাতে ১৩৩ কোটি টাকা আদায় টার্গেটের বিপরীতে ১১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এবারও এ খাতে ১৩২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
এবার বাজেট বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। বাজেট বক্তৃতায় মেয়র বলেন, ‘আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপি আগামী সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থাপিত হবে। আশা করছি চলতি বছর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়নে চার লেন বিশিষ্টকরণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে তা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমাদের পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের নেতৃত্বে এই নগরে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বিগত ২০ বছরে তা হয়নি। ২৭ বছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কোনও অর্গানোগ্রাম অনুমোদন করা যায়নি। আমি দীর্ঘ ২৭ বছর পর তা অনুমোদন করিয়েছি। আগামীতে আর একটি নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।’ ঘোষিত এ বাজেট বাস্তবায়নে মেয়র নগরবাসী সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে চসিক কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।








