দিনাজপুরের হিলিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের ভূমি জরিপ অধিদফতরের যৌথ প্রতিনিধি দল। দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করার কাজে পিলারগুলোর মধ্যে নষ্ট হওয়া, ভেঙে যাওয়া ও চুরি হওয়া পিলারের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন তারা।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ভূমি জরিপ প্রতিনিধি দলটি হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের শূন্যরেখায় আসেন। এসময় সেখানে বিজিবির জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ মোহাম্মদ আনিসুল হক তাদের স্বাগত জানান। এসময় সেখানে হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা শাহীনসহ বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর যৌথ প্রতিনিধি দলটি হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেট সংলগ্ন ২৮৫নং মেইন পিলারের ১১নং সাব পিলার থেকে ২৮৬নং মেইন পিলার পর্যন্ত এলাকায় ভেঙে যাওয়া, হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ও নষ্ট হওয়া সীমানা পিলারের নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও মেরামত কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এর পরে প্রতিনিধি দলটি বিকালে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
যৌথ জরিপে বাংলাদেশের পক্ষে ভূমি জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব তসলীমুল ইসলাম, উপপরিচালক প্রশাসন ও জরিপ উপসচিব আবি আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ডিএলআরএসের পরিচালক অভিন্দ্র সিং ও ডেপুটি পরিচালক সুমি বিশ্বাসের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ভূমি জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক তসলিমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘গত ২৭ তারিখ থেকে আমরা যৌথভাবে ভারতের শিলিগুড়ি অঞ্চল থেকে পরিদর্শন শুরু করি। সেখানে অনেকগুলো সীমানা পিলার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ আমরা হিলি সীমান্তে ভারত-বাংলাদেশ অংশে কিছু সীমানা পিলারের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার ঠিকমতো করা হয়েছে কিনা, তা সঠিক জায়গায় রয়েছে কিনা সেসব পরিদর্শন করলাম। ইতোমধ্যেই এই সীমান্তবর্তী এলাকায় সবগুলো সীমানা পিলার মেরামত করা হয়ে গেছে। মেরামতযোগ্য কোনও সীমানা পিলার নেই। তবে পাঁচবিবি সীমান্তে কিছু কিছু সীমানা পিলার মিসিং রয়েছে। সেগুলো নির্মাণের জন্য ভারতীয় দলকে অনুরোধ করা হবে। এছাড়াও হিলি সীমান্তবর্তী এলাকায় পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে কিছু সীমানা পিলার মিসিং রয়েছে। যা আমরা ইতোমধ্যেই রেকি করেছি, আবার করবো। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’
প্রসঙ্গত ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি গতকাল ২৯ জুলাই বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আগামীকাল ৩১ জুলাই একই পথ দিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি ভারতে ফিরে যাবে।








