খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্কুল শিক্ষার্থী মো. মঞ্জুর শেখ (১৫) ও বৃদ্ধা মর্জিনা বেগম (৭০) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৪ আগস্ট) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঞ্জুর মারা যায়। আর শনিবার (৩ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মর্জিনা বেগম।
স্থানীয় টিএসবি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রথমে মঞ্জুরের জ্বর হলেও কেউ বুঝতে পারেনি এটি ডেঙ্গু। তবে জ্বর মারাত্মক হলে তাকে শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যায়ে অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি।’
জানা গেছে, মঞ্জুর খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের উত্তর খাজাডাঙ্গা গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল শেখ ওরফে বাবু’র ছেলে। মঞ্জুর দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী মঞ্জুর শেখ কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিল। সাধারণ জ্বর ভেবে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু কোনও উন্নতি না হওয়ায় শনিবার তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলেও সেখান থেকে তাকে ফেরত দেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তির পর কয়েক ব্যাগ রক্তও দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে মঞ্জুর মারা যায়।
খুমেকের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতীম দেবনাথ বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মর্জিনা বেগম। তিনি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতি গ্রামের ইসরাইল সরদারের স্ত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
মর্জিনার স্বজনরা জানান, ডেঙ্গু ছাড়াও মর্জিনা বেগম লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। লিভারের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি। পরে খুলনায় এসে সপ্তাহখানেক খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শনিবার বেশ অসুস্থ হয়ে রাতে মারা যান তিনি।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আবদুর রাজ্জাক মর্জিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে স্কুলছাত্র মঞ্জুর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কিনা সেটি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।








