মুন্সীগঞ্জ সদরের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ৮০ বছরের পুরনো মূল দ্বিতল অ্যাকাডেমিক ভবনটিতে বড় আকারের ফাটল ধরেছে। এরপর হেলে পড়েছে ১৯৩৯ সালে নির্মিত ভবনটি। এছাড়াও এর পাশের পৃথক একতলা একটি শ্রেণিকক্ষ ও টিনশেডের তৈরি রোভার স্কাউট কক্ষেও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনও সময় ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এই ফাটলের ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের পাশে অবস্থিত একতলা শ্রেণিকক্ষটির সামনের রাস্তা ভেঙে গেছে। কক্ষটিও হেলে পড়েছে। কলেজ রোভার স্কাউট অফিস কক্ষটির তলদেশ থেকে মাটি সরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। যেকোনও সময় পাশের পুকুরে হেলে পড়ে যেতে পারে। ঐতিহ্যবাহী পুরাতন দুইতলা ভবনটিতে এক পাশের অংশ ভেঙে ফাটল ধরেছে। তবে ভবন ফাটল বা হেলে পড়ার ঘটনায় শিক্ষক শিক্ষার্থীর কেউ আহত হননি।
শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের পাশে অবস্থিত জেলা স্টেডিয়ামে বালু ভরাটের কাজ চলছিল। পানি নিষ্কাশনের জন্য কলেজের পুরাতন মূল অ্যাকাডেমিক ভবনের পেছনে নালা কেটে দেওয়া হয়। এর ফলে পানির প্রচণ্ড চাপে ভবনগুলোর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভবনের ক্ষতি হয়েছে। ভবন তিনটির পাশের রাস্তাটিও ভেঙে গেছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, যদি ক্লাস পরিচালনাকালে ঘটনাটি ঘটতো, তাহলে আরও খারাপ কিছু হতে পারতো।
জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে কলেজে পানি প্রবেশের নালাটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দিচ্ছেন শ্রমিকরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার মো. রাসেল কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।
কলেজের উপাধ্যক্ষ নাসিমা আহমেদ জানান, হরগঙ্গা কলেজটির ঐতিহ্য সবার চোখের সামনে শেষ হয়ে গেলো। প্রতিষ্ঠাকালের এই ভবনটিতে রয়েছে বিশেষায়িত কম্পিউটার রুম, তিনটি বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণিকক্ষ ও ব্যবহারিক রুম। রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিচালনা করার শিক্ষা উপকরণ। এছাড়াও কম্পিউটার রয়েছে ৫০টির মতো।
কলেজটির পাশেই অবস্থিত জেলা স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ চলছিল। স্টেডিয়াম থেকে পানি পুরাতন ভবনটির পাশে জমা হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এক পর্যায়ে মজুদ এসব পানির চাপে ভবনের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক পর্যায়ে পুরাতন ভবনটিতে ফাটল ধরে হেলে পড়েছে এবং পাশের শ্রেণিকক্ষ ও রোভার কক্ষটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টেডিয়ামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবগত না করে এই কাজটি করেছে। মঙ্গলবার(৬ আগষ্ট) একটি জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এই বিষয়ে।








