ধুনটে বৈশাখী চরে ভয়াবহ ভাঙনের শিকার অর্ধশত পরিবার

বগুড়া প্রতিনিধি
০৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫২আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২২:০০

ভয়াবহ ভাঙনে যমুনায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে বৈশাখী চর বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর বৈশাখী চরে ভয়াবহ ভাঙনের শিকার হয়েছে অর্ধশত পরিবার। নদীভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে তারা। নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে চর ছেড়েছেন অনেকেই। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ভাঙনরোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সরেজমিন জানা যায়, ধুনটের ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে যমুনা নদীর তীরে বৈশাখী চর। এই চর এক সময়ের সমৃদ্ধশালী গ্রাম ছিল। ১৯৮৪ সালে যমুনার ভাঙন শুরু হয় এই গ্রামে। প্রতি বছর দফায় দফায় ভাঙনের শিকার হয়ে সম্পূর্ণ গ্রামটি পাঁচ-ছয়টি বছরের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গ্রামের মানুষেরা বসতভিটা হারিয়ে কেউ অন্য এলাকায় ঠিকানা গড়েন। দুস্থ পরিবারগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। এর প্রায় ২৫ পর ২০০৯ সালে আবার জেগে ওঠে চরটি। এরপর থেকে ওই চরে বসতি গড়ে ওঠে। ওই চরে রয়েছে শতবর্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। গত কয়েক বছর ধরে ওই চরে প্রায় ২৫০ পরিবার বসবাস করে আসছিল। চলতি বছরে যমুনায় বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখী চরে ভাঙন শুরু হয়। বর্তমানে যমুনা নদীতে পানি কমলেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয় নেওয়া ছাপড়া ঘরে গবাদিপশু নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছে এই চরের ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো।

চপল মাহমুদ, চাঁন মিয়া, হানি, আশাদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, আবদুল মোমিন, আলী হাসান, সুবেল মিয়া, আমজাদ সরকার, ছালাম সরদার, গোলা সরদার, শিপন মিয়া, সোহাগ মিয়া, আবদুস সাত্তার ও লিটন দোকানদারসহ বেশ কিছু মানুষ তাদের পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বৈশাখী চর ছেড়ে চলে গেছেন। বসতভিটা ছাড়াও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কৃষকের আবাদি জমি এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে চরের মসজিদটি। শুষ্ক মৌসুমে বৈশাখী চরে বসতি কমার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। 

বৈশাখী চরের সজিব মণ্ডল জানান, ভাঙন থেকে বাঁচতে ঘর সরিয়ে নিয়েছেন। এখানে ছাপড়া ঘর তুলে বউ-বাচ্চা নিয়ে কষ্ট করে আছেন। অনেকেই চর ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। ভাঙনের শিকার গৃহবধূ জয়নব আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাড়ির জায়গা নদী খেয়েছে। অনেক কষ্ট করে বেঁচে আছি; কেউ দেখতে আসে না।’

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, ‘চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বৈশাখী চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। অসংখ্য পরিবার নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছে। অনেকেই চর ছেড়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ চরের উঁচু স্থানে আপাতত আশ্রয় নিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারও হাত নেই। ভাঙন অব্যাহত থাকলে হয়তো চর রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। চরবাসীর অন্যত্র আশ্রয়ের জন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আপাতত নদীভাঙন থেকে মূলভূমি রক্ষায় কাজ করছি। সরকারিভাবে চর রক্ষার কোনও প্রকল্প এলে বৈখাশী চরে কাজ করা হবে।’

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম