হটলাইনে অভিযোগ পেয়ে দখল হওয়া রেলের তিনটি জলাশয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুরে দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দনের নেতৃত্ব দুদকের একটি টিম এসব জলাশয়ে অভিযান চালায়। প্রাথমিক অভিযানে জলাশয় তিনটি দখল হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। লুৎফুল করিব চন্দন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দখল হওয়া জলাশয় তিনটি হলো–- আগ্রাবাদ ডেবা, পাহাড়তলী জোড় ডেবা ও ভেলুয়ার দীঘি।
লুৎফুল করিব চন্দন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রেলওয়ের তিনটি জলাশয় ইজারা নিয়ে জলাশয়ের আশপাশ ভরাট করে তাতে অবৈধভাবে স্থাপনা তোলা হয়েছে– হটলাইন ১০৬তে এমন কল পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তিনটি জলাশয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে আমরা জলাশয়ের পাড়গুলো ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করার সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা দুদক প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট দাখিল করবো। প্রধান কার্যালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
দুদক সূত্র জানায়, ‘আগ্রাবাদ ডেবা’ ২০ একর আয়তনের আগ্রাবাদ ডেবা ইজারা নিয়েছিলেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলী। তিনি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও সন্তানরা এটি ভরাট করে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিচ্ছেন। ২১ একর আয়তনের জোড় ডেবা মাছ চাষ করার ঘোষণা দিয়ে ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে পৃথকভাবে পাঁচ বছর করে ইজারা নিয়েছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল হাই। এরপর থেকে শুরু হয় দখল, বাড়িঘর ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ। আবদুল হাই মারা যাওয়ার পর এটি এখন ইজারা নিয়েছেন তার ভাতিজা আবদুল লতিফ। তিনিও একইভাবে ভরাট করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেন। অন্যদিকে পাহাড়তলী স্টেশনের পশ্চিমে ১৩ দশমিক ৭৪ একর আয়তনের ‘ভেলুয়ার দীঘি’ ইজারা নেয় রেলওয়ে স্কাউটস। শুরুতে রেলওয়ের মহা-পরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশে তাদের ইজারা দিলেও পরবর্তীতে চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। এরপরও সেটি দখল করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।








