বান্দরবানে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যে সরকারি রাস্তার ইট উঠিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. জামাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এটিকে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ বলছেন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার লেমুঝিরি এলাকায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত খেয়াং হোস্টেলের সামনে ছাত্রদের আসা-যাওয়ার জন্য ২০১৮ সালে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ মিটার ইটের সলিং দেওয়া রাস্তা নির্মাণ করা হয়। বুধবার (৭ আগস্ট) সকালে এ রাস্তা থেকে ইট তুলে নেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল চৌধুরী। ওই দিনিই কাজের ঠিকাদার সিকিউরিটি বিল উত্তোলনের জন্য রাস্তার ছবি তুলতে গিয়ে দেখেন রাস্তা থেকে কয়েকজন শ্রমিক ইট তুলে নিচ্ছে। পরে ঠিকাদার জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানায়, জামাল চৌধুরী ইটগুলো তুলে ফেলতে বলেছেন।
এ বিষয়ে বালাঘাটার ঠিকাদার আব্দুল মোমেন জানান, ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় এক বছর আগে আমরা এই ব্রিক সলিং রাস্তাটি নির্মাণ করেছি। নির্মাণ কাজের শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করে জেলা পরিষদকে বুঝিয়ে দিয়েছি। আজ এক বছর পর কাজের সিকিউরিটি বিল উত্তোলনের জন্য ছবি তুলতে এসে দেখি শ্রমিক দিয়ে রাস্তার ইটগুলো তুলে ফেলা হচ্ছে। রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় আমাদের সিকিউরিটি বিলও আটকে যেতে পারে। আমাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি জেলা পরিষদ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এই বিষয়ে জানতে সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল চৌধুরীর মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এক বছর আগে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ইট সলিং রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। রাস্তাটি আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেওয়া সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের শামিল বলেও জানান তিনি।’
বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, সরকারি রাস্তার ইট তুলে ফেলা আইনগতভাবে অপরাধ। বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে কেউ এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। আমি অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবো, কেন তিনি ইট তুলে ফেলেছেন জানার চেষ্টা করবো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’








